|
Date: 2025-11-30 15:09:45 |
মোঃ মনোয়ার হোসেন
জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ-
জয়পুরহাটে এনসিপিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দলের সাবেক জেলা প্রধান সমন্বয়ক ফিরোজ আলমগীর হঠাৎ করে পদত্যাগের পর যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তা ছিল স্পষ্টভাবে দলের সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। তিনি তখন দলের কার্যক্রমকে "অস্বচ্ছ", "মানহানিকর" এবং "দ্বিধাজনক" বলে উল্লেখ করেছিলেন।
কিন্তু মাত্র অল্প সময়ের ব্যবধানে একই ব্যক্তি আবার জেলা কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় পরিস্থিতি বদলে গেছে। এতে দলের ভেতরে দেখা দিয়েছে গভীর অস্বস্তি এবং ক্ষোভ।
জয়পুরহাটের নেতাকর্মীরা এ ঘটনাকে দায়িত্ববোধের ঘাটতি এবং নৈতিকতার সংকট হিসেবে দেখছেন। তাদের মন্তব্য “যিনি নিজেই দলকে প্রশ্নবিদ্ধ করলেন, তিনি আবার কীভাবে নেতৃত্বের কেন্দ্রে ফিরে এলেন?”
কেউ কেউ বলছেন, এ ঘটনা স্পষ্ট করে দেয় যে দলের ভেতরে মতভেদ ও আস্থার সংকট আরও বেড়েছে। স্থানীয় রাজনীতির মাঠে এটি দলকে বিপাকে ফেলেছে।
অনেক কর্মী অভিযোগ করছেন, হঠাৎ পদত্যাগ এবং আবার দ্রুত ফিরে আসা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি ছিল পূর্বনির্ধারিত সমঝোতার ফল। তাদের দাবি, এ ধরনের দ্বৈত আচরণ সাধারণ নেতাকর্মীর মনোবল ভেঙে দেয় এবং দলের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এনসিপির ভেতরে সংঘাত আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। তারা বলছেন,যে ব্যক্তি দলের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য রাখলেন, তার হাতে আবার দায়িত্ব দেওয়া এটি নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে অসঙ্গতি দেখায়।তাদের মতে, এতে জেলার সাধারণ সমর্থকদের মধ্যেও দল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে ফিরোজ আলমগীর বলেন,আমার পদত্যাগ পত্রটি গৃহীত হয়নি।দলের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এনটিভি অনলাইন কে জানান,জেলা পর্যায়ের কমিটিতে আওয়ামীপন্থিদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছিলো পরে কেন্দ্রকে জানিয়েছিলাম দলে কোন আওয়ামীপন্থি থাকবে না।দলের সাথে আলোচনার মাধ্যমে মিমাংসা হওয়ায় দল আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে।
পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে জয়পুরহাটে এনসিপির সাংগঠনিক ঐক্য, নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক অবস্থান তিনটিই চাপে পড়েছে। নেতাকর্মীরা জানাচ্ছেন, এই অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে দলের সামনে আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে।
© Deshchitro 2024