মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম। 


চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলা জুড়ে এখন আমন মৌসুমের শেষ ধাপ। মাঠে আর গৃহস্থালির উঠানে চলছে ধান কাটার পর মাড়াই–শুকানোর ব্যস্ততম সময়। সকাল গড়ানোর আগেই কৃষকরা দলবেঁধে বেরিয়ে পড়ছেন ধানক্ষেতে। কেউ কাটা ধান মাথায় করে বাড়িতে আনছেন, কেউ আবার মাড়াই যন্ত্রের শব্দে মুখর করে তুলছেন গ্রামাঞ্চল। মাঠে-মাঠে সোনালি ধানের সমারোহ। লোহাগাড়ার পুটিবিলা, বড়হাতিয়া, চরম্বা,আমিরাবাদ, আধুনগর,চুনতি, পদুয়া, কলাউজান, লোহাগাড়া সদর এবং সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া, ছদাহা, খাগরিয়া সহ প্রায় বিভিন্ন  ইউনিয়নের ধানক্ষেতগুলো এখন সোনা রঙে ছেয়ে আছে। কাটার পর রোদে শুকানো ধান নিয়ে কৃষাণ-কৃষাণীরা উঠানজুড়ে ব্যস্ত। 


লোহাগাড়ার এক কৃষক  বলেন,

“এবার ধান খুব ভালো হয়েছে।  রোগ-বালাই তেমন হয়নি। এখন শুধু দ্রুত মাড়াই শেষ করতে পারলেই চিন্তা কমে যাবে।”

 তবে উৎপাদন ভালো হলেও শ্রমিক সংকট কৃষকদের বড় চিন্তার কারণ। ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিকদের চাহিদা বাড়ায় মজুরি বেড়েছে প্রায় ২০–৩০ শতাংশ। আগে যেখানে ধান কাটতে ৮০০–৯০০ টাকা লাগত, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০০–১৪০০ টাকায়।

সাতকানিয়ার আর এক  কৃষক জানান,

“ফসল ভালো, কিন্তু খরচও অনেক বেড়ে গেছে। শ্রমিক না পেয়ে অনেক সময় নিজের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাল ধরতে হচ্ছে।” উল্লেখ্য যে,আগে যেখানে গরু দিয়ে ধান মাড়ানো হতো, এখন অধিকাংশ কৃষকই ব্যবহার করছেন থ্রেশার মেশিন। এতে সময় কম লাগে এবং উৎপাদনও বেড়ে যাচ্ছে। মেশিন মালিকদের মতে, প্রতিদিন প্রায় ২০–৩০ কৃষকের ধান মাড়াই করা হচ্ছে, তবুও চাহিদা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে এখন কৃষকদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা—বাজারে ধানের ন্যায্য মূল্য পাওয়া। অনেকে ধান ভেজা (কাঁচা) বিক্রি না করে শুকিয়ে পরে বাজারে তুলতে চান যাতে দাম বাড়লে লাভ হয়।

একজন কৃষক তার অনুভুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে  জানান,

“মাঠে সারা বছর পরিশ্রম করি। যদি দাম ভালো না পাই, তাহলে কষ্টটাই বেশি লাগে। তবে এখন পর্যন্ত বাজারে দাম খারাপ না।” সব মিলিয়ে ধান কাটার মৌসুমে গ্রামগুলোতে এক ধরনের উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। শিশু-কিশোররা মাঠে ধান কুড়াতে ব্যস্ত, মহিলারা উঠানে ধান শুকাতে সাহায্য করছেন। দিনের শেষ বিকেলে সোনালি ধানের গন্ধে ভরে ওঠে পুরো এলাকা।




প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024