শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার শতবর্ষী ঝিনাইগাতী বাজার বড় জামে মসজিদের নবগঠিত কমিটি বাতিল করে নামাজি ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, সাবেক কমিটির পক্ষে জহুরুল ইসলাম মিলন, লুৎফর রহমান, আলহাজ্ব আবু বকর, মোঃ আঃ আজিজ ও বাদশা আলম ভুঁইয়াসহ অন্যান্য মুসল্লিগণ। ১১ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার সকালে ঝিনাইগাতীর স্থানীয় মিল মালিক সমিতির হল রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক মসজিদ কমিটির সদস্যরা এই দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, সম্প্রতি হঠাৎ করেই পূর্বের মসজিদ কমিটি ভেঙে দিয়ে প্রভাবশালী মহলের ইচ্ছেমতো একটি মনগড়া কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় মুসল্লি ও বাজারের অধিকাংশ ব্যবসায়ী এ কমিটি গঠনের বিষয়টি জানতেন না। অভিযোগ করা হয়, নবগঠিত কমিটির সদস্যরা জনসমর্থন ছাড়াই আত্মীয়স্বজন ও সুবিধাভোগীদের নিয়ে কমিটি করেছেন, যা মুসল্লিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, মসজিদটি ঝিনাইগাতী বাজারের সরকারি (খাস খতিয়ানভুক্ত) জমিতে অবস্থিত। কিন্তু নতুন কমিটি পুরনো মসজিদ ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের নামে মসজিদের পাশে দোকান বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিটি দোকানে ১৮ থেকে ২০ লক্ষ টাকা করে জামানত আদায়ের মাধ্যমে প্রায় এক কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়, যা তারা “মসজিদের নামে বানিজ্যিক কর্মকাণ্ড” বলে উল্লেখ করেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, রাস্তার ধারে ও খাসজমিতে মার্কেট নির্মাণ করা হলে বাজারে যানজট মারাত্মক আকার ধারণ করবে, এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হবে। ইতোমধ্যে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত যানজটের কারণে বাজারের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। অপরদিকে, শেরপুরের ঝিনাইগাতী বাজারের শতবর্ষী বড় মসজিদ পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে আনা অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে নবগঠিত কমিটি। বুধবার (১২ নভেম্বর) সকালে উপজেলা সদরের সোনালী ব্যাংকের নিচতলায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কমিটির সহ-সভাপতি মো. ছামিউল ইসলাম সাদা। তিনি বলেন, মুসল্লিদের উপস্থিতিতে প্রচলিত নিয়ম মেনে স্বচ্ছভাবে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। কয়েকজন ব্যক্তি ব্যক্তিগত স্বার্থে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। মসজিদ মার্কেটের দোকান ভাড়ার সিকিউরিটি টাকার অভিযোগকে তিনি “সম্পূর্ণ মিথ্যা” দাবি করে বলেন, সব অর্থ লেনদেন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়। ৫৫২ নম্বর প্লটের সংলগ্ন সরকারি খাস জমি বিষয়ে তিনি জানান, মসজিদের প্রয়োজনে জমিটি বহু বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে- এতে কারো ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত নয়। তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান, “প্রকৃত সত্য তুলে ধরলে ধর্মীয় ঐক্য রক্ষা পাবে এবং শতবর্ষী মসজিদ নির্মাণের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হবে ইনশাআল্লাহ।” সংবাদ সম্মেলনে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান, ক্ষুদ্র বণিক সমিতির সভাপতি মোখলেছুর রহমান খান মক্কু, ইউপি সদস্য জাহিদুল হক মনির ও মাদ্রাসার সেক্রেটারি আলহাজ্ব ছমির আলী মল্লিকসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা বক্তব্য রাখেন।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024