গত তিনদিনের টানা বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার বিস্তীর্ণ আমন ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হেলে পড়েছে পাকা ধানগাছ, আর কাটা ও শুকানোর জন্য বিছিয়ে রাখা ধান ভিজে নষ্ট হচ্ছে। এতে ঘরে ফসল তোলার আগ মুহূর্তে শত শত কৃষক পড়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়।


রবিবার (২ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে ধানগাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। নিচু এলাকার অনেক মাঠে পানি জমে ধানগাছ ডুবে গেছে, আবার কোথাও কাটা ধানে গেজ গজিয়েছে।


হালুয়াহাঁটি মালাকোচা গ্রামের কৃষক সোহেল রানা বলেন, “ধান কাটা-মাড়াইয়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে, তার আগেই এমন আবহাওয়া শুরু হলো। বাতাসে ধানগাছ হেলে পড়েছে, ভেজা ধান শুকানো যাচ্ছে না। জমিতে পানি জমে ধান ঝরে পড়ছে। এখন কাটা ধান ঘরে তোলা খুব কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে, আর শ্রমিকের খরচও বেড়ে গেছে।”


বালিজুরী গ্রামের কৃষক কবির হোসেন জানান, “এই অবস্থায় ধান কেটে নিলেও রোদ না থাকায় শুকানো যাচ্ছে না। আরও কয়েকদিন এমন আবহাওয়া থাকলে পুরো ফসলই নষ্ট হয়ে যাবে। এতে উৎপাদন খরচও উঠবে না বলে আশঙ্কা করছি।”


কৃষকরা জানান, এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের ফলন ভালো হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেই আশার ফল এখন বিনষ্ট হওয়ার পথে, বিশেষ করে নিচু জমির ফসল বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


এ বিষয়ে শ্রীবরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান আকন্দ বলেন, “যেসব ধান কেটে খেতে শুকাতে রাখা হয়েছিল, সেগুলো দ্রুত পানি থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে ফিরলেই ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পাকা ধান দ্রুত কেটে ফেলার জন্য কৃষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024