|
Date: 2025-10-22 14:07:28 |
আশাাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের বুধহাটা-উজিরপুর ব্যস্ততম সড়কের বৈউলা মায়ের বাড়ি মন্দির সংলগ্ন এলাকায় সড়কের ওপর বিট তৈরি করে পাইপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। জনবসতি এলাকা ও সড়কের নিচ দিয়ে পাইপ পার করে এভাবে বালু উত্তোলনের ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যে কোনো মুহূর্তে সড়কটি ধসে পড়লে ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৈউলা মায়ের বাড়ি মন্দিরের সামান্য উত্তরে আরেকটি মন্দিরের পেছনে অরুণ মণ্ডলের বসতবাড়ির সামনের অংশে গোপনে উত্তোলিত বালু দিয়ে ভরাট কাজ চলছে। বিট তৈরি করে পাইপের মাধ্যমে বালু তোলার ফলে সড়কের নিচে ফাঁপা তৈরি হয়েছে, যা এলাকাবাসীর জন্য এখন ভয়াবহ বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ও কুচক্রী মহল প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জনবসতি এলাকা থেকে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলন করছে। এতে সরকার একদিকে রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে বৈধভাবে ইজারা নেওয়া ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।বুধহাটা এলাকার এক বালু ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা সরকারের নিয়ম মেনে ইজারা নিয়ে বালু ব্যবসা করি। কিন্তু কিছু লোক রাতে বা ফাঁকা সময়ে অবৈধভাবে পাইপ বসিয়ে বালু তুলে নেয়। এতে সরকার যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, আমরাও ব্যবসায় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।”প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে বুধহাটা-উজিরপুর সড়ক দিয়ে। এই সড়কের ওপর বিট তৈরি করে পাইপ পার করার কারণে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি ভারী যান চলাচলে সড়কের ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।এলাকাবাসী জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কয়েক দফা মৌখিকভাবে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে অবৈধ বালু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য আরও বেড়েছে।সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “এটা শুধু অবৈধ বালু উত্তোলন নয়, এটা মানুষের জীবনহানির আশঙ্কা তৈরি করছে। আমরা প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ চাই।”সরকার প্রতি বছর বালু মহাল ইজারার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে। কিন্তু উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভূগর্ভস্থ অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে সরকার বিশাল রাজস্ব হারাচ্ছে। একই সঙ্গে যারা বৈধভাবে ইজারা নিয়েছেন তারা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না। এতে প্রশাসনিক তদারকির ঘাটতির অভিযোগ উঠছে।এক স্থানীয় ইজারাদার বলেন, “যদি অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হয়, তাহলে আমরাও ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হবো। সরকার রাজস্ব হারাবে, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো—উভয়েরই ক্ষতি।”স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টি আশাশুনি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়ের তাৎক্ষণিক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা বলেছেন, অবিলম্বে এ বিষয়ে তদন্ত করে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগ পেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ভূগর্ভস্থ অবৈধ বালু উত্তোলন শুধু পরিবেশ নয়, জনজীবন ও সরকারি সম্পদের জন্যও মারাত্মক ক্ষতির কারণ। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
© Deshchitro 2024