|
Date: 2025-10-08 16:51:52 |
রংপুরের পীরগাছায় গত প্রায় ১ মাসে ৯টি বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। চুরি হওয়া ৯টির মধ্যে ৬টি ট্রান্সফরমার ইটা ভাটায় লাগানো ছিলো, বাকি ৩টি ট্রান্সফরমার (বরেন্দ্র) পানি সেচের। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে গ্রাহকদের। ইটভাটার এক মালিক পক্ষ থানায় মামলা করলেও অন্যরা এবিষয়ে অভিযোগ দিয়েছেন।
জানা গেছে, উপজেলায় গত প্রায় ১ মাসে ৯টি বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে যা বেশির ভাগ চুরি হচ্ছে পীরগাছা ও পারুল ইউনিয়নে। এর মধ্যে পারুল ইউনিয়নে ওকড়াবাড়ী মোড় মিতা ইটভাটায় ৩টি ও মনুরছড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের পানি সেচের কাজে ব্যবহৃত ৩টি ট্রান্সফরমার। পীরগাছা ইউনিয়নে শওকত হাজীর এসএ ব্রিকসে ৩টি। ট্রান্সফরমার চুরির ফলে গ্রাহক পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মিতা ইটভাটার নৈশপ্রহরী হোসেন আলী বলেন, গত শুক্রবার রাতে দায়িত্ব পালনকালে পেছন থেকে মুখোশধারী ৫-৬জন লোক আমার মাথায় আঘাত করে আমার হাত-পা বেঁধে ঘরে রাখে। সকালবেলা স্থানীয় আব্দুর রউফের সাহায্যে হাত-পায়ের বাঁধন খুলে দেখতে পাই ৩টি ট্রান্সফরমার বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে এলোমেলোভাবে পড়ে আছে। তবে ট্রান্সফরমারের ভেতরের তামার কয়েল নিয়ে বাকি অংশ ফেলে চলে যায় চোর চক্র।
স্থানীয় আব্দুর রউফ বলেন, আমি ফজরের নামায শেষে প্রকৃতির ডাকে ইটভাটার টিউবওয়েলের কাছে যাই। তখন হালকা শব্দ শুনে ঘরে গিয়ে দেখি হোসেন আলীর হাত-পা বাঁধা। পরে তার হাত-পায়ের বাঁধন খুলে দেই।
মিতা ইটভাটার ম্যানেজার ইয়াকুব আলী বলেন, নৈশপ্রহরী হোসেন আলী মোবাইলফোনে আমাকে বিষয়টি জানালে অজ্ঞাত নাম দিয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করি।
এসএ ব্রিকসের ম্যানেজার লেবু মিয়া বলেন, এক মাস আগে ৩টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে যায়। যার নামে থানা অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল সেই ছেলে অন্য মামলা গ্রেফতার হওয়ায় এবিষয়ে আর আগানো হয়নি। পানি সেচযন্ত্রের অপারেটর আনোয়ার হোসেন একই বিবৃতি দিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের বিচার দাবি করেন।
অভিযোগকারীদের অভিযোগ, ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের অসাধু চক্র জড়িত থাকতে পারে। কারণ জানাশোনা লোক ছাড়া এমনভাবে কেউ ট্রান্সফরমার চুরি করতে পারবে না। ৯টি ট্রান্সফরমারের চুরির ধরণ, নমুনা একই। চোর চক্ররা প্রথম বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে তাদের কার্যক্রম চালান। পরে সব ট্রান্সফরমারের ভেতরে থাকা তামার কয়েল নিয়ে বাকি অংশ ফেলে চলে যায়।
রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১, পীরগাছা উপজেলার উপমহাব্যবস্থাপক আশরাফুল ইসলাম বলেন, চোর চক্র ট্রান্সফরমারের ভেতরে থাকা তামার কয়েল নিয়ে বাকি অংশ ফেলে যায়। কয়েলের দাম বেশি হওয়ায় চোর চক্র সেটি নিয়ে যায়। চুরি হয়ে যাওয়া ট্রান্সফরমার গ্রাহকদের এবিষয়ে পরামর্শ ও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
পীরগাছা থানা ওসি রোমেল বড়ুয়া বলেন, এবিষয়ে একটি মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
© Deshchitro 2024