সাতক্ষীরায় জেলা আনসার ভিডিপি মনিটরিং কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় আনসার ভিডিপি সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরায় দায়িত্ব পালন করার সুবাদে তিনি নানা অনিয়ম, হয়রানি ও ঘুষ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। বিষয়টি উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।


চলমান দুর্গাপূজা উপলক্ষে আনসার ভিডিপি সদস্যরা বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু দায়িত্ব পালনের সুযোগে উজ্জ্বল হোসেন নিজস্ব দুই সহযোগী—শামীম পারভেজ ও আলামিনকে ব্যবহার করে আনসার ভিডিপি সদস্যদের নিকট থেকে ঘুষ দাবি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা মোটরসাইকেলযোগে বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে গিয়ে সদস্যদের হেনস্থা করেন, মিথ্যা অভিযোগ লিখে দেন এবং জোরপূর্বক কাগজে স্বাক্ষর নেন।


ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের আনসার ভিডিপি দলনেত্রী নাসিমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন,

আমি গত বছর ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় পুরস্কার পাই। এরপর থেকে মনিটরিং কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসেন আমার কাছে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি আমাকে নানা হয়রানি ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করে আসছেন।


একই অভিযোগ তুলেছেন ভিডিপি সদস্য সালাউদ্দিন ও সেলিম হোসেন। তারা জানান, গত ২৪ সেপ্টেম্বর জেলা আনসার অফিসে পূজার দায়িত্বের জন্য সিসি আনতে গেলে, মনিটরিং কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসেন তাদের চারজনকে অফিসকক্ষে আটকে রেখে জোর করে একটি লিখিত ও ভিডিও সাক্ষ্য নেন। এ সময় তাদেরকে মিথ্যা অভিযোগে সই করতে বাধ্য করা হয়।


এ বিষয়ে বেশ কয়েকজন দলপতি, দলনেত্রী ও ভিডিপি সদস্য অভিযোগ করে বলেন, উজ্জ্বল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে শামীম ও আলামিনকে দিয়ে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে হয়রানি করে আসছেন। এমনকি মিনান নাহারের বিরুদ্ধেও তিনি ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ তোলেন এবং সেই অভিযোগে সাক্ষী হয় তার দালাল আলামিন।


অভিযোগ রয়েছে, উজ্জ্বল হোসেন রাজনৈতিকভাবেও প্রভাব খাটাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করা এবং পূর্ববর্তী প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জামায়াত-বিএনপির লোক সাজিয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডেরও অভিযোগ উঠে এসেছে।


তবে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মনিটরিং কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসেন মোবাইল ফোনে প্রতিবেদককে বলেন,

আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা। আমি সত্য তথ্য তুলে ধরার কারণে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। কেউ যদি প্রমাণ দিতে পারে, তবে আমি দায় স্বীকার করবো।


সাতক্ষীরা জেলা আনসার ভিডিপি কমান্ড্যান্ট মোঃ আরশাফুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন,

মনিটরিং কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে আমরা সেগুলো যাচাই করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবো।


ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হলে আনসার ভিডিপির ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ থাকবে এবং সদস্যরা হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন।


প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024