|
Date: 2025-09-27 18:36:12 |
রংপুরের পীরগাছায় ছাওলা ইউনিয়নের পশ্চিম ব্রাহ্মণীকুন্ডা এলাকায় কিশোর মাসুদ রানা (১৯) হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পীরগাছা থানা পুলিশ। এর মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পীরগাছা থানা আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রংপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) আসিফা আফরোজ আদরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, মাসুদ রানা ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সকালে রংপুর কোর্টে একটি মামলার হাজিরা দিতে ঢাকা থেকে আসেন। মামলার কাজ শেষে তিনি দাদার বাড়ি পশ্চিম ব্রাহ্মণীকুন্ডা এলাকায় অবস্থান করেন। ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৭টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ২১ সেপ্টেম্বর দুপুরে স্থানীয় ফারুক মাস্টারের ধানক্ষেত থেকে তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, ইয়াবা বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে মাসুদ রানা ও রিয়াদ হাসান রকির মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়। এঘটনার জের ধরেই মাসুদকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর লাশ ধানক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যান তারা।
এঘটনায় মাসুদ রানার দাদা আব্দুল করিম ২২ সেপ্টেম্বর পীরগাছা থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করলে আধুনিক প্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের সহায়তায় পুলিশ ২২ সেপ্টেম্বর সন্দেহভাজন একই গ্রামের আব্দুল মালেক মিয়ার ছেলে রিয়াদ হাসান রকি (১৯) ও বুদা মিয়ার ছেলে গাউসুল আজম হিরন (২৩)-কে গ্রেফতার করেন। আদালতে তিনদিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে আব্দুল মালেক মিয়ার স্ত্রী রনজিনা বেগম রিনা (৪২) ও লিটন মিয়ার মেয়ে লুফা আক্তার (১৭)-কে গ্রেফতার করা হয়। ২৫ সেপ্টেম্বর তাদেরকে দু’দিনের রিমান্ড জিজ্ঞাসাবাদে দুজনেই হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে থানা ওসি রোমেল বড়ুয়া, এমামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শফিকুল ইসলাম আকন্দসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
© Deshchitro 2024