সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় সাবেক সমাজসেবা অফিসার ও বর্তমানে বাগেরহাট জেলা সমাজসেবা অফিসের প্রবেশন অফিসার শেখ শহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, মথুরেশপুর ইউনিয়নের চরদাহ গ্রামের এক প্রতিবন্ধী আলমগীর কবিরের নামে ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্প থেকে বরাদ্দকৃত ট্রাইসাইকেল বাবদ ৩০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি।


প্রতিবন্ধী আলমগীর কবির অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর কালিগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে তার নামে ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্পে ৩০ হাজার টাকা অনুমোদন হয়। এর আগেই ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সমাজসেবা অফিসার শেখ শহিদুর রহমান তার কাছ থেকে দরখাস্ত নিয়ে অফিসের হুমায়ুন কবিরকে দিয়ে প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র, সাতক্ষীরা থেকে একটি ট্রাইসাইকেল সংগ্রহ করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে ২৮ নভেম্বর আলমগীরকে সেই ট্রাইসাইকেলটি প্রদান করা হয়। কিন্তু বরাদ্দকৃত ৩০ হাজার টাকা তাকে দেওয়া হয়নি।


ভুক্তভোগী আলমগীর কবির সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভাগীয় পরিচালক ও জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করে বরাদ্দকৃত টাকা ফেরত ও অভিযুক্ত অফিসারের বিচার দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, তিনি একজন প্রতিবন্ধী হয়েও প্রতারণার শিকার হয়েছেন, অথচ প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।


অভিযোগের বিষয়ে প্রবেশন অফিসার শেখ শহিদুর রহমান বলেন, অভিযোগটি সঠিক নয়। তিনি দাবি করেন, ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্পের বরাদ্দকৃত ৩০ হাজার টাকা ভুক্তভোগী আলমগীরের মায়ের হাতে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ট্রাইসাইকেলও ভুক্তভোগীর হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।


শেখ শহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে এর আগেও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি সরকারি কলেজ রোডে অনিয়মের মাধ্যমে একটি আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে তাকে শ্যামনগরে বদলি করা হলে স্থানীয়রা তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে তিনি সেখানকার দায়িত্ব নিতে পারেননি। পরে তাকে বাগেরহাটে প্রবেশন অফিসার হিসেবে বদলি করা হয়।


এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024