|
Date: 2025-09-17 10:43:56 |
রাজশাহী কলেজ মুসলিম ছাত্রাবাসে সিট বরাদ্দ প্রক্রিয়া প্রশাসনিকভাবে স্থগিত থাকলেও বাস্তবে সেই নির্দেশনার তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, কোনো নোটিশ ছাড়াই গোপনে চলছে সিট বণ্টন। এতে প্রশাসনের পছন্দের ও বিভিন্ন মহলের তদবিরে পরিচিত শিক্ষার্থীরাই সিট পাচ্ছেন।
গত জুলাই মাসে ছাত্রাবাস কর্তৃপক্ষ সীমিত পরিসরে আবেদন আহ্বান করেছিল। পরে ২১ আগস্ট প্রকাশিত তালিকায় অনার্স শিক্ষার্থীদের ইন্টারমিডিয়েট ভবনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে প্রতিবাদে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। ওই রাতে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করলে কর্তৃপক্ষ তালিকা বাতিল করে দেয়। এরপর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে সিট বরাদ্দ প্রক্রিয়া স্থগিত আছে
তবে সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোনো তালিকা বা নোটিশ ছাড়াই মুসলিম ছাত্রাবাসের একাধিক ব্লকে নতুন শিক্ষার্থী তোলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এখন পর্যন্ত ৮ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী গোপনে সিট পেয়েছেন। এমনকি কয়েকজন বিনা অনুমতিতে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছে
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ই-ব্লকে অন্তত চার থেকে পাঁচজন, সি-ব্লকে এক থেকে দুইজন এবং এ-ব্লকে একজন শিক্ষার্থী গোপনে সিট বরাদ্দ পেয়েছেন। এছাড়া এ-ব্লকে আরও একজন শিক্ষার্থী বিনা অনুমতিতে অবস্থান করছে
সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইউসুব আলী বলেন, “আমি একাধিকবার আবেদন করেও সিট পাইনি। অথচ অযোগ্যদের সিট দেওয়া হচ্ছে। প্রকাশ্যে সিট বরাদ্দ স্থগিত রেখে গোপনে তোলা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও বৈষম্যমূল
গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াজ উদ্দীন আহম্মেদ অভিযোগ করেন, “স্যারের কাছে বারবার গিয়েও সিট পাইনি। সুপারিশে অন্যদের সিট দেওয়ার বিষয়টি আমি জানার পর জানালে স্যাররা তা অস্বীকার করেন
তত্ত্বাবধায়ক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. রুবাইয়াত-ই-আফরোজ বলেন, “নোটিশ ছাড়াও বিশেষ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী তোলা যায়। আমি বিশেষ বিবেচনায় দুইজনকে তুলেছি। এর বাইরে আর কতজন উঠেছে তা জানি না
প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ড. শাহ মো. মাহবুব আলম বলেন, “বর্তমানে সিট বরাদ্দ সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। নতুন শিক্ষার্থী ওঠার কথা নয়। কেউ যদি গোপনে উঠে থাকে সেটা আমার জানা নেই।”
© Deshchitro 2024