নোয়াখালী হাতিয়ায় মাছধরা ট্রলারে জলদস্যুদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় নিশান উদ্দিন নামে এক জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় জলদস্যুরা। 

শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ঘাটে ফিরে এসে এসব জানায় ট্রলারের জেলেরা। এ ঘটনা জানার পর জেলে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। 

অপহৃত নিশান উদ্দিন (২২) উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ম্যাগপাশন গ্রামের মো: সারু স্যারাং এর ছেলে। 

এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে নিঝুমদ্বীপের দক্ষিনে বঙ্গোপসাগরে হামলার এই ঘটানা ঘটে। এসময় জলদস্যুরা ট্রলারের মাছ, জাল, জ্বালানি তেলসহ জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। জলদস্যুদের হামলায় আহত ট্রলারের ৫ মাঝি মাল্লা।

জেলেরা জানান, ১৬ মাঝি মাল্লা নিয়ে জামসেদ মাঝির ট্রলারটি গত বৃহস্পতিবার সাগরে মাছ শিকারে যায়। শুক্রবার রাতে হঠাৎ জলদস্যুরা তাদের আক্রমন করে। কিছু বুঝে উঠার আগে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয় অনেককে। এতে ৪ জন সাগরে লাফিয়ে পড়ে ভাসতে থাকে । পরে তাদের উদ্ধার করা হয়। এদিগে জলদস্যুরা ট্রলারের সকল মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে তারা ইঞ্চিনের বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে দিয়ে বিকল করে পেলে যায়। এসময় তারা নিশান উদ্দিনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে জেলেরা অনেক চেষ্ঠা করে ট্রলারের ইঞ্জিন মেরামত করে ঘাটে ফিরে আসে।

ট্রলারের মাঝি জামসেদ উদ্দিন বলেন, জলদস্যুদের কাছে অনেক আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তাদের কথাতে বুঝা গেছে জলদস্যুদের বাড়ী চট্রগ্রামের কোন উপজেলায় হবে। তাদের হামলায় ৪-৫ জন জেলে আহত হয়। অনেকের মাথা ও পায়ে রক্তক্ষরন হয়েছে। তারা যাওয়ার সময়র নিশানকে নিয়ে যায়। পরে অনেক কষ্ট করে বিকল হওয়া ইঞ্জিন মেরামত করে করে ঘাটে ফিরে আসেন তারা।

এই বিষয়ে জাহাজমারা পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ খোরশেদ আলম বলেন, হাতিয়ার দক্ষিনে বঙ্গোপসাগরে একটি মাছধরা ট্রলার ডাকাতি হওয়ার ঘটনা শুনেছি। এই বিষয়ে জেলেরা এখনো কোন অভিযোগ দেয়নি। তবে নিখোঁজ জেলের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024