|
Date: 2025-09-14 10:29:47 |
সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার হাজরাখালি নদীর বাঁধ ভেঙে ২০২১ সালে কলিমাখালী, নাছিমাবাদ, হাজরাখালি, মাড়িয়ালা ও লাঙ্গলদাড়িয়া গ্রামে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়। কলিমাখালী চৌরাস্তা থেকে কলিমাখালী সুইচগেট পর্যন্ত সড়কের পাঁচটি স্থানে বড় ধরনের ভাঙন সৃষ্টি হলে হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ে। এ সড়কটি ছিল গ্রামীণ জনপদের একমাত্র চলাচলের পথ। দীর্ঘদিন সড়ক ভাঙা থাকায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে না পারায় শিক্ষাক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের সময় স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সে সময়ের ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু হেনা সাকিল কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেননি। ফলে দুর্ভোগ আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়।
পরবর্তীতে প্রভাষক দীপংকর বাছাড় দিপু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো প্রকল্প পাননি। অবশেষে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব বাজেট থেকে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের একটি প্রকল্প হাতে নেন।
অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় ৭নং শ্রীউলা ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্যের স্বামী এবং স্থানীয় জামায়াতের আমির মাওলানা লুৎফর রহমানকে। প্রকল্পের বাজেট ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, কাজ হয়েছে মাত্র ৫০ হাজার টাকার।
একজন ভুক্তভোগী জানান, “রাস্তা ভাঙা থাকায় আমাদের হাঁটা ছাড়া উপায় ছিল না। সড়ক সংস্কারের নামে বালি-ইট ফেলে দায়সারা কাজ করা হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই জায়গাগুলো আবার ভেঙে গেছে।”
অন্য একজন কৃষক বলেন, “সরকারের টাকা দিয়ে যদি সঠিকভাবে কাজ হতো, আমরা আজ কষ্টে থাকতাম না। উন্নয়নের টাকা নেতারা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যবহার করছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পে ব্যবহার করা হয়েছে মাত্র ২ ভোরা বালি, ২ হাজার ইট এবং অল্প কিছু শ্রমিক। কোনো মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করা হয়নি। কাজের মান নিম্নমানের হওয়ায় সড়কটি আবারো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলার প্রকল্প অফিসার আমিরুল ইসলামকে জানাতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। রিপেয়ারের কাজ একরকম হয়।” তার এ বক্তব্যে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসীর প্রশ্ন— নামাজ পড়া ব্যক্তিগত বিষয়, কিন্তু দায়িত্বে অবহেলার দায় কীভাবে অস্বীকার করা যায়?
তদন্তে স্পষ্ট হচ্ছে, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতি স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতা না থাকলে গ্রামীণ অবকাঠামো টেকসই হয় না, বরং অল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে পড়ে।
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানান, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও নিম্নমানের কাজের পেছনে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা বলেন, “সরকারের টাকা জনগণের উন্নয়নের জন্য, ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়।”
© Deshchitro 2024