|
Date: 2025-09-11 19:30:11 |
কুড়িগ্রামের উলিপুরে নকল সার তৈরির কারখানার সন্ধান ও বিপুল পরিমাণ সার জব্দ করেছে প্রশাসন। এসময় নকল সার কারখানার মালিককে এক লাখ টাকার জরিমানা করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে, বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে পৌরসভার নাড়িকেলরাড়ি খেয়ারপাড় এলাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উলিপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে একটি চক্র বিভিন্ন কোম্পানির মোড়কে তাদের নিজস্ব তৈরি নকল সার প্যকেটিং করে বাজারজাত করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকালের দিকে একটি সার কোম্পানির প্রতিনিধি জনৈক এক ব্যক্তির সারের দোকানে তাদের কোম্পানি সহ বিভিন্ন কোম্পানির মোড়কজাত সার দেখতে পান। দোকানী তাকে কোম্পানীর মূল্য থেকে অনেক কম দামে স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে সারের প্যাকেট ক্রয় করতে পারেন বলে জানান। এসময় ওই প্রতিনিধির বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে তিনি নকল সার কারখানার অনুসন্ধান করতে থাকেন। পৌরসভার নাড়িকেলবাড়ি খেয়ারপাড় এলাকার আছির উদ্দিনের ছেলে সিদ্দিকুর রহমান (৪২) এর বাড়িতে বিভিন্ন ব্রান্ডের নকল সার তৈরির কারখানা খবর পান। এ ঘটনা তিনি উপজেলা কৃষি বিভাগকে অবগত করলে কৃষি কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের লোকজন ঘটনা স্থলে যান ও এ ঘটনার সত্যতা পান। স্হানীয়রা অভিযোগ করেন, সিদ্দিকুর রহমান দীর্ঘদিন থেকে নকল সার বাজারজাত করে আসছেন।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, প্রতারক সিদ্দিকুর রহমান জীপসাম, ম্যাগনোশিয়াম, ডিএপি ও ডলো চুন মিশিয়ে নকল সার তৈরি করতেন। এরপর সেগুলো মনোভিট, সালফাভিট, গ্রীনভিট, থট, গ্রীনার, হাদিয়া ভিট ও সিলভা গোল্ড নামে বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটে ভরিয়ে বাজার জাত করতেন। এসব কাজে হিট সিলিং মেশিন ২ টি ও ১ টি সিউয়িং মেশিন ব্যবহার করতেন। এসব নকল সার কৃষকেরা ক্রয় করে তা জমিতে ব্যবহার করে প্রতারিত হন।
এস-কিউ নাফিস ক্রপ কেয়ার লিঃ এর কোম্পানীর প্রতিনিধি আতিকুর রহমান বলেন, ওই প্রতারক আমাদের কোম্পানীসহ বিভিন্ন কোম্পানীর পণ্য মোড়ক জাত করে স্বল্পমূল্যে বাজারজাত করতেন। ওই সার কৃষকদের কোনো উপকারে আসতো না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিভিন্ন ব্যান্ডের অপব্যবহার ও ভেজাল মিশ্রণ করায় সার ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৬ এর ১৬ (১) ধারা লঙ্ঘন করায় ভ্রাম্যমান আদালত ওই প্রতারকের ১ লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। এ সময় সবার উপস্থিতিতে সার কারখানার সকল জিনিসপত্র জব্দ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক নয়ন কুমার সাহা জানান, ওই প্রতারকের ১ লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। এ সময় তিনি জরিমানার অর্থ প্রদান করায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয় এবং সকল উপকরন জব্দ করে ধ্বংস করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। #
© Deshchitro 2024