সাতক্ষীরার বিনেরপোতা বিসিক শিল্পনগরীতে ভেজাল প্রাণি ও মাছের খাবার এবং কৃষিতে ব্যবহৃত সার তৈরির অভিযোগে রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে কারখানাটি সিলগালা করা হয়।


বুধবার বিকেলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও উপজেলা কৃষি দপ্তরের একটি টিম যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে এ ব্যবস্থা নেয়। অভিযানের সময় কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ ভেজাল পণ্য ও মিশ্রণ তৈরির যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ২ বস্তা ফিস জেল, ৬০ বস্তা সালফার, ৮৫ কার্টুন টপজিংক, ৬০ কার্টুন ইকোজিংক প্লাস, ২০ কার্টুন ওয়াটার ক্লেয়ারসহ নানা ধরনের ভেজাল সার ও মাছের খাবার।


অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম (৫৩) সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি রুস্তম আলী সরদারের ছেলে।


সাতক্ষীরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজামুদ্দিন মোল্যা জানান, রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিসিক শিল্পনগরীতে প্লট বরাদ্দ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ভেজাল সার ও খাদ্য উৎপাদন করে আসছিলেন। এতে কৃষি উৎপাদন, মাছ ও প্রাণির স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। এ কারণে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয় এবং জব্দকৃত মালামাল ভ্রাম্যমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়।


সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, কৃত্রিম উপাদান মিশ্রিত সার ও খাদ্য কৃষি জমির ক্ষতি করে এবং প্রাণি ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। তিনি আরও জানান, জব্দকৃত সব মালামাল বিসিক শিল্পনগরীতে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে সেগুলো ধ্বংস করা হবে।


ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, ২০০৬ সালের সার ব্যবস্থাপনা আইনের আওতায় রফিকুল ইসলামকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার অবৈধ কারখানাটি সিলগালা করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে আর ভেজাল উৎপাদন চালাতে না পারে।


এ অভিযানে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা আশা করছেন, প্রশাসনের এমন উদ্যোগে ভেজাল সার ও খাদ্য উৎপাদন বন্ধ হবে এবং কৃষকরা আসল ও মানসম্মত পণ্য ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024