শিশু-কিশোরদের টাইফয়েড প্রতিরোধে আগামী ১২ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত সাতক্ষীরা জেলায় এক মাসব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এ সময়ে ৯ মাস বয়স থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়নরত প্রায় ৫ লাখ ৫ হাজার শিশু ও কিশোরকে টাইফয়েড টিকা প্রদান করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।


এই টিকাদান কার্যক্রমকে সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের কনফারেন্স রুমে এক এ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।


সভায় স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, শিক্ষা কর্মকর্তা, ইমাম-পুরোহিত, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, টাইফয়েড একটি গুরুতর ব্যাধি, যা শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও সুস্থতায় বাধা সৃষ্টি করে। তাই এই টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়।


অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন, প্রতিটি শিশুকে অবশ্যই টিকা প্রদানের আওতায় আনতে হবে। এজন্য সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও গণমাধ্যমকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।


টিকাদান কর্মসূচি চলাকালে সাতক্ষীরার প্রতিটি টিকাদান কেন্দ্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়ন, পৌরসভা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশেষ টিম গঠন করা হবে।


সভায় জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ বলেন, “টাইফয়েড প্রতিরোধে এই কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্রশাসন থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।” পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, “স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন সর্বদা পাশে থাকবে।”


সভায় উপস্থিত বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সচেতনতার মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জেলার লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত প্রতিটি শিশু-কিশোরকে টাইফয়েড টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024