|
Date: 2025-09-10 15:53:21 |
শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত ও শিক্ষার মানোন্নয়নে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ ঘোষণা দিয়েছেন, সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জেলার সব কোচিং সেন্টার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ে কোনো শিক্ষার্থীকে কোচিং সেন্টারে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে “শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয়” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এই নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক। সভায় জেলার অনার্স-মাস্টার্স কলেজ এবং ফাজিল-কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষবৃন্দসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রিপন বিশ্বাস, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মুহা. আবুল খায়ের, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাশেম, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বাসুদেব বসু, সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মুফতি আখতারুজ্জামান, আশাশুনি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. নজরুল ইসলামসহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষরা।
জেলা প্রশাসক বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে আসা বাধ্যতামূলক করতে হবে। কোনো শিক্ষক শ্রেণিকালীন সময়ে বাড়িতে বা বাইরে কোচিং পরিচালনা করলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালে ফটক তালাবদ্ধ রাখতে হবে, যাতে অযথা আসা-যাওয়া না হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ধূমপান রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং পরীক্ষায় শতভাগ নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
জেলা প্রশাসক আরও উল্লেখ করেন, “কোচিং এখন অনেকটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। অভিভাবকরাও সন্তানদের ক্লাসে মনোযোগী করার চেয়ে কোচিংয়ের উপর নির্ভর করছেন। এ মানসিকতা পরিবর্তন জরুরি। শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষা অর্জনে শিক্ষক ও অভিভাবক উভয়কেই সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।”
সভায় উপস্থিত শিক্ষাবিদরা জেলা প্রশাসকের এ নির্দেশনা ও পদক্ষেপকে স্বাগত জানান এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
© Deshchitro 2024