|
Date: 2025-09-07 16:27:19 |
সাতক্ষীরার সদর উপজেলার দক্ষিণ সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তফুরা খাতুনের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে জানা যায়, তিনি অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের নাম নিজের বিদ্যালয়ে ভর্তি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করে আসছেন।
সরেজমিন অনুসন্ধান: দক্ষিণ সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত অনেক শিক্ষার্থীর নাম হাজিরা খাতায় থাকলেও তারা কখনোই ক্লাস করে না। শুধু তাদের নামে নিয়মিত উপবৃত্তির টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর নাম ব্যবহার শহরের নবারুণ মোড়ে অবস্থিত একরা একাডেমিতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়—জালসান রহমান তিশা নামে এক শিক্ষার্থীকে দক্ষিণ সুলতানপুর বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী দেখানো হয়েছে। অথচ সে একরা একাডেমির নিয়মিত ছাত্রী। তবুও তার নামে সরকারি উপবৃত্তির টাকা তোলা হচ্ছে। একইভাবে একরা একাডেমির নিয়মিত ছাত্র আব্দুর রহমানকেও দক্ষিণ সুলতানপুর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এমনকি খাদিজা খাতুন, আশিকুর রহমান, আবরার ওয়াসীফ, সাদিকুল, রুম্মান, ফিরদাউস রহমান, শাম্মি আক্তার তানহা, মীম, সুয়াজ, সাইয়ারা হক, শ্রেয়শী, ইব্রাহিম, সাবিনা, সামিউল, নাজিফা তানজিহাসহ বহু শিক্ষার্থীকে দক্ষিণ সুলতানপুর বিদ্যালয়ে ভর্তি দেখিয়ে টাকা তোলা হলেও তারা শহরের একরা একাডেমি, রসুলপুর মাদ্রাসা, নবজীবন স্কুল, পি.এন. স্কুল, বিআইএএম স্কুল, মাদার তেরেসা কিন্ডারগার্টেন, টাউন সুলতানপুরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত শিক্ষার্থী।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ অভিভাবকরা অভিযোগ করেন—প্রধান শিক্ষিকা তফুরা খাতুন সহকারী শিক্ষিকা নাহিদ সুলতানাকে সাথে নিয়ে যোগসাজশে এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। নাহিদ সুলতানা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং ভয়ভীতি দেখান বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত শিক্ষিকার স্বীকারোক্তি বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষিকা তফুরা খাতুনের কাছে জানতে চাইলে তিনি অকপটে স্বীকার করেন—“আমার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কম থাকায় আমি এই কাজ করেছি। ভুল হয়ে থাকলে ভবিষ্যতে আর করব না।”
প্রশাসনের বক্তব্য প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা প্রবীর মণ্ডল এ বিষয়ে বলেন, “মানবিক কারণে হয়তো প্রধান শিক্ষিকা এদিক-সেদিক করেছেন। তবে আমরা বিষয়টি যাচাই করে দেখব।” তিনি আরও জানান, দক্ষিণ সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাস্তবে হাতেগোনা ৪০-৪৫ জন শিক্ষার্থী আছে। এদিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, “এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি সচেতন এলাকাবাসী অবিলম্বে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা তফুরা খাতুন ও সহকারী শিক্ষিকা নাহিদ সুলতানার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
© Deshchitro 2024