|
Date: 2025-09-05 14:58:17 |
অন্তর্বর্তী সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে উপহার দেওয়া-নেওয়া নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন। প্রলোভন শিরোনামে দেওয়া সেই স্ট্যাটাসে তিনি মূলত এমপি বা মন্ত্রী হয়েও কিভাবে সততার অনুশীলন করা সম্ভব, তাই তুলে ধরেছেন।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) ওই ফেসবুক পোস্টে জ্বালানি উপদেষ্টা লিখেন, ‘কিছুদিন আগে শ্রীলংকায় এক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে গেলে সেখানকার বিদ্যুৎমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে আমাকে একটি উপহার প্রদান করা হয়। হোটেলে ফিরে গিফট বক্স খুলে দেখি একটি দামি ব্র্যান্ডের হাতঘড়ি। ঘড়িটি আমি হাতে পরি, পছন্দ হয়, লোভ হয়। দেশে ফিরে এসে, মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে চিঠি লিখে ঘড়িটি তোষাখানায় জমা দেয়ার জন্য পাঠাই।’
তিনি আরও লেখেন, ‘গত পরশু আবার এক ভারতীয় বিদ্যুৎ কোম্পানির প্রধান (আদানি নয়) আমার সঙ্গে দেখা করেন, আমাদের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে। দীর্ঘদিনের পাওনা বকেয়া পরিষদ করায় কৃতজ্ঞতা জানতে এসেছেন। ফেরার সময় বলেন সামান্য উপহার নিয়ে এসেছি। আমি তাকে বলি উপহার গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি নির্ধারিত মূল্যসীমা আছে। উপহারটি খুলে দেখি একটি আইপ্যাড। বাসার আইপ্যাডটি পুরনো হয়ে গেছে, তাই লোভ হয়। আইপ্যাডটি তাকে ফিরিয়ে দেই। পাশে সোফায় বসে আমার কাণ্ড দেখে অন্য একজন উপদেষ্টা মিটিমিটি হাসছেন।’
তবে সব উপহার তিনি ফিরিয়ে দেন না উল্লেখ করে তিনি লিখেন, ‘কোনো উপহারই গ্রহণ করি না, এমন নয়। বিদেশি মন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূতরা দেখা করার সময় সুভেনির, বই নিয়ে আসেন। অবাণিজ্যিক পণ্য বা মূল্যসীমার মধ্যে কোনো খাবার, যেমন- চকোলেট। সেগুলো গ্রহণ করি। বিনিময়ে তাদের নিজের লেখা বই উপহার দেই। ভাগ্যিস কয়েকটা বই লিখেছিলাম!’
শেষে তিনি আবারও লিখেন, ‘আমার মনে হয়েছে, প্রলোভনের ঊর্ধ্বে ওঠাই জনপ্রতিনিধিদের প্রধান কাজ। এটা করতে পারলেই অন্য সব কাজ সহজ হয়ে যায়। আশা করি আসন্ন নির্বাচনে জনগণ নির্লোভ জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত করবেন।’
© Deshchitro 2024