জাতীয় সম্পদ রক্ষা ও সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন বিরোধী সংগ্রামের ঐতিহাসিক দিন, ফুলবাড়ি অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে যশোরে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ। আজ মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে যশোর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ২০০৬ সালের গণ-আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মরণ করে সংগঠনটি।১৯ বছর আগে আজকের এই দিনে দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে এশিয়া এনার্জির উন্মুক্ত কয়লাখনি প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে প্রাণ দিয়েছিলেন আমিন, সালেকিন ও তরিকুল।সেই আত্মত্যাগকে স্মরণ করে বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের যশোর জেলা কমিটির নেতাকর্মীরা শহরের এমএম কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থিত শহীদ মিনারে সমবেত হন।পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, "ফুলবাড়ির বীর জনতা রক্ত দিয়ে প্রমাণ করেছে যে, এদেশের মানুষ তাদের জাতীয় সম্পদ কোনো বহুজাতিক কোম্পানির হাতে তুলে দেবে না। উনিশ বছর পেরিয়ে গেলেও ফুলবাড়ি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। সরকারগুলো সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কাছে নতজানু হয়ে দেশের খনিজ সম্পদ বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।

সমাবেশে বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের যশোর জেলা কমিটির সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড তসলিম উর রহমান এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড জিল্লুর রহমান ভিটুর মতো শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।যারা বরাবরই যশোরে এই কর্মসূচির নেতৃত্বে থাকেন।নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে ফুলবাড়ি গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণের সঙ্গে সম্পাদিত ৬-দফা চুক্তির অবিলম্বে পূর্ণ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান। দাবিগুলো হলো:এশিয়া এনার্জিকে বাংলাদেশ থেকে সম্পূর্ণ বহিষ্কার করতে হবে,দেশের কোথাও উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা যাবে না,আন্দোলনকারী নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে,জাতীয় সম্পদ রক্ষার নীতি গ্রহণ করে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।বক্তারা আরও বলেন, "ফুলবাড়ির লড়াই কেবল একটি এলাকার লড়াই ছিল না, এটি ছিল দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ রক্ষার লড়াই। সেই সংগ্রাম আজও শেষ হয়নি। সুন্দরবনবিনাশী রামপাল প্রকল্প থেকে শুরু করে দেশের স্থলভাগ ও সমুদ্রবক্ষের গ্যাস-তেল ব্লক বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার চক্রান্ত—সবই একই সূত্রে গাঁথা। ফুলবাড়ির শহীদদের দেখানো পথেই এই সকল জাতীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।"উল্লেখ্য, দিবসটি উপলক্ষে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে কেন্দ্রীয়ভাবে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। যশোরের এই কর্মসূচি তারই অংশ হিসেবে জাতীয় সম্পদ রক্ষায় স্থানীয় জনগণের প্রতিশ্রুতি ও লড়াইয়ের চেতনাকে জাগ্রত করল।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024