যশোরে গণঅধিকার পরিষদের দুই নেতার পদত্যাগের বিষয়টি দলের অভ্যন্তরে গভীর সংকট ও বিভেদকে তুলে ধরেছে। এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো।গণঅধিকার পরিষদ যশোর সদর উপজেলার দুই নেতা, রাফাত রহমান দ্বীপ ও তার সহযোগী, ২৩ আগস্ট শনিবার রাতে তাদের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তারা জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তারা মূলত দুটি বিষয়কে সামনে এনেছেন।রাফাত রহমান দ্বীপ তার পদত্যাগপত্রে বলেছেন যে, গণঅধিকার পরিষদ এখন "ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের" প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, দলের বর্তমান নেতৃত্ব আদর্শ থেকে সরে গিয়ে এমন একটি অবস্থান গ্রহণ করছে যা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণে সহায়তা করতে পারে।

২২ আগস্ট যশোরে অনুষ্ঠিত একটি গণসমাবেশে দলের প্রধান নুরুল হক নুরের দেওয়া কিছু বক্তব্যের মাধ্যমে এই অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সমাবেশে নুর বলেছিলেন যে, "যুক্তি আছে আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করার।" তার এই বক্তব্য দলের অনেক নেতাকর্মীর মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।এই পদত্যাগের ঘটনাটি দলের মধ্যে চলমান অভ্যন্তরীণ কোন্দলেরই একটি অংশ। এর আগে গত ১৭ আগস্ট, যশোর জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরহাদ রহমান মুন্নাও পদত্যাগ করেছিলেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, দলের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক ইকবাল এবং যশোর জেলার সভাপতি আশিকুর রহমান অর্থের বিনিময়ে এমন একজন ব্যক্তিকে সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে পদায়ন করেছেন, যিনি পূর্বে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন শ্রমিক লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মুন্না এটিকে দলের নীতি ও নৈতিকতার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন। যদিও জেলা সভাপতি আশিকুর রহমান এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন যে, জেলা কমিটি কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদনক্রমে গঠিত হয় এবং এখানে কোনো আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই।

এই ধারাবাহিক পদত্যাগের ঘটনা যশোর জেলা গণঅধিকার পরিষদের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা সৃষ্টি করেছে। অনেকে মনে করছেন, দলের ভেতরে নীতি ও আদর্শ নিয়ে বড় ধরনের সংকট চলছে। একদিকে পদত্যাগকারীরা বলছেন, দলের মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে নেতৃত্ব সুবিধাবাদী রাজনৈতিক অবস্থানে চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে, জেলা সভাপতি আশিকুর রহমান দাবি করছেন যে, পদত্যাগকারীরা "আবেগপ্রবণ" এবং এর আগেও তারা বিভিন্ন সময়ে পদত্যাগ করেছিলেন। তিনি পদত্যাগের পেছনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিএনপি ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও তুলেছেন।যশোরে ২২ আগস্ট গণঅধিকার পরিষদের গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সভাপতি নুরুল হক নুর উপস্থিত ছিলেন। এই সমাবেশ ঘিরে যখন দলের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হওয়ার চেষ্টা করছিলেন, ঠিক তখনই এই পদত্যাগের ঘটনাগুলো সামনে এলো। এতে স্পষ্ট যে, দলের ভেতরের বিভাজন এবং নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে, যা সংগঠনের ভবিষ্যৎ গতিবিধিকে প্রভাবিত করতে পারে।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024