সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদ শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী এলাকায় ভয়াবহ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। স্থানীয় মৎস্যঘের মালিকরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বেড়িবাঁধে বসানো ৯টি অবৈধ পাইপ অপসারণ করার পর থেকেই এই সংকট তীব্র হয়েছে।


দীর্ঘদিন ধরে ওই পাইপগুলো দিয়ে নদী থেকে সরাসরি ঘেরে পানি সরবরাহ করা হতো। কিন্তু হঠাৎ পাইপ অপসারণের পর আর নতুন পানি আনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ঘেরে থাকা পানি দ্রুত গরম হয়ে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি করছে। এতে প্রতিদিন শত শত চিংড়ি ও কাঁকড়া মারা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা।


এ বিষয়ে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বিকাশ মন্ডল বলেন, “পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘেরে অক্সিজেনের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। এতে মাছ ও কাঁকড়ার ব্যাপক মৃত্যু ঘটছে। ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।”


স্থানীয় ঘের মালিকরা অভিযোগ করে বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে মাছ ও কাঁকড়া চাষই মানুষের প্রধান জীবিকা। হঠাৎ পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যে অনেক চাষি ধার-দেনায় জড়িয়ে পড়েছেন।


দুর্গাবাটি এলাকার ঘের ব্যবসায়ী বিকাশ চন্দ্র বলেন, “বেড়িবাঁধে পাইপ বসানো আইনত নিষিদ্ধ হলেও বিকল্প ব্যবস্থা না করে একসাথে সব পাইপ তুলে ফেলার কারণে আমরা চরম বিপদে পড়েছি। এখনই যদি বিকল্প কোনো খাল, স্লুইসগেট বা বৈধ জলপ্রবাহের ব্যবস্থা না করা হয় তবে উপকূলের হাজারো মানুষ জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।”


স্থানীয় কাঁকড়া ব্যবসায়ী অনিমেষ কুমার জানান, “বুড়িগোয়ালিনীসহ আশপাশের কয়েক হাজার পরিবার ঘেরনির্ভর। এভাবে পানি সংকট চলতে থাকলে মাছ ও কাঁকড়ার উৎপাদনে ধস নামবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।”


এ বিষয়ে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, “উপকূল জুড়ে নির্মিত বহু ফিশারি প্রকল্পের স্লুইসগেট দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে আছে। যদি এগুলো সংস্কার করা হতো, তাহলে কোনো পানির ঘাটতি হতো না।”


মৎস্যচাষিদের দাবি, উপকূলীয় অঞ্চলে মাছ ও কাঁকড়া চাষ টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত পানি সরবরাহ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তারা দ্রুত ফিশারি প্রকল্পের কলগেটগুলো সংস্কার করে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসাথে জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প পানি সরবরাহ ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন চাষিরা।


তাদের আশঙ্কা, দ্রুত সমাধান না করা হলে উপকূলের মৎস্য ও কাঁকড়া খাত ভেঙে পড়বে এবং এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে স্থানীয় অর্থনীতির উপর।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024