|
Date: 2025-08-16 09:47:39 |
◾মোস্তাকিম বিল্লাহ,সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনির প্রতাপনগরে শারীরিক ও বাক প্রতিবন্ধী ১৪ বছর বয়সী কুমারী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে আশাশুনি থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে,উপজেলার প্রতাননগর ইউনিয়নে।
এজহার সূত্রে জানা গেছে, প্রতাপনগর ইউনিয়নের শৈয়ুব আলী শেখের মেয়ে মরিয়ম জন্মগতভাবে শারীরিক ও বাক প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধী হওয়ায় সে বাড়িতে ও বাড়ীর শরীকের লোকজনের বাড়িতে ঘোরা ফেরা করে বেড়ায়। মঙ্গলবার(১২ আগস্ট) একই গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দীন সরদারের ছেলে প্রতিবেশী দাদা কওছার আলী ওরফে খোকন সরদারের (৫৪) এর বাড়িতে যায়।
খোকনের স্ত্রী লাভলী বেগম প্রায় সময় তাকে দিয়ে সংসারের বিভিন্ন কাজ কর্ম করানো সহ বিভিন্ন স্থানে সাথে নিয়ে ঘোরা ফেরা করে। মঙ্গলবার বিকাল অনুমান ৩ ঘটিকার সময়শৈয়ুব আলীর স্ত্রী মোছাঃ কামরুন নাহার তাদের বসত বাড়ির উত্তর পশ্চিম পাশে পুকুরের ঘাটে হাড়িপাতিল ও থালা বাসন ধুতে যায়। এসময় পুকুর পাড়ের পশ্চিম পাশে দাদা কওছার আলী ওরফে খোকনের দুই কক্ষ বিশিষ্ট একতলা ছাদের ঘরের পশ্চিম পাশের কক্ষের মধ্যে মরিয়মের গোগানীর শব্দ শুনতে পেয়ে দ্রুত আসামীর খোকনের বসত বাড়ির মধ্যে ঢুকে তার স্ত্রী লাভলী বেগমকে মামী বলে ডাকে। কিন্তু আসামী খোকনের একতলা বিশিষ্ট ছাদের ঘরের দুইটি রুমের দরজা বন্ধ ও কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে পশ্চিম পাশের রুমের দরজার পাশে যেয়ে সেই রুমের মধ্যে মরিয়মের গোগানী শব্দ শুনে ডাকচিৎকার করে। তখন আসামী খোকন ঘরের দরজা খুলে বারান্দায় এসে শৈয়ুব আলীর স্ত্রীকে হুমকি দিয়ে বলে তুমি এখানে কি করতে এসেছো? তোমার মেয়েকে নিয়ে বাড়ি চলে যাও জানিয়ে সে দ্রুত পালিয়ে যায়। মরিয়মের মায়ের ডাকচিৎকার শুনে তার ছেলে ফাহাদ ও চাচাতো ভাই আনিছুর রহমান এগিয়ে আসলে তাদের সহায়তায় প্রতিবন্ধী কন্যা মরিয়মকে আসামী খোকনের বসত ঘরের খাটের উপর উলঙ্গ ও কন্যার গোপনাঙ্গে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। শৈয়ুব আলী ঘটনার সংবাদ পেয়ে দ্রুত বাড়ি এসে স্ত্রী সহ সাক্ষীদের এবং প্রতিবন্ধী কন্যার নিকট হতে বিভিন্ন আকার,ইঙ্গিত,ইশারায় জানতে পারে যে,খোকনের বাড়িতে কেহ না থাকার সুযোগে বিকাল অনুমান ২ ঘটিকা হতে ৩ ঘটিকার মধ্যে যে কোন সময়ে মরিয়ম (১৪) কে তার ঘরের মধ্যে নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে পরিহিত পায়জামা খুলে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে।
আমার(শৈয়ুব আলী)পরিবারের লোকজন একই দিন আসামীর বাড়িতে যেয়ে আসামীকে না পেয়ে তার পরিবারের লোকজন সহ তার মামা নওয়াব আলী সরদারকে ঘটনা জানায়। তখন আসামীর পরিবারের লোকজন সহ তার মামা বলে কওছার আলী ওরফে খোকনকে হাজির করে আমরা বিষয়টি নিয়ে বসাবসি করবো। কিন্তু সেই থেকে আসামী পলাতক থাকায় আমি উক্ত ঘটনা স্থানীয় চেয়ারম্যান সাহেব সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জানাইলে তাহারা আসামীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সহ আমার কন্যাকে হাসপাতালে নিয়ে ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেয়।
ভুক্তভোগী পরিবার আসামীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রশাসনের আসু চোখে কামনা করেছেন। এ ঘটনায় প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবু দাউদ ঢালী জানান,বিষয়টা আমাকে জানাই ছিলো,লোক দ্বারা তদন্ত করেছি,কিছুটা সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে।। আশাশুনি থানা অফিসার ইনচার্জ শামসুল আরেফিন জানান,বাদীর পক্ষ থেকে লিখিত এজাহার পেয়েছি,মামলা নেওয়া হবে,প্রস্তুতি চলছে।
© Deshchitro 2024