জামালপুরের মাদারগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহিদুল হাসানের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে আদালতে ডাহা মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিলের আনীত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ভুক্তভোগীর কাছে সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

গতকাল রোববার (৩ আগষ্ট) বেলা ১১টায় অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জামালপুর পুলিশ কন্ট্রোলরুমের পুলিশ পরিদর্শক মো. গোলাম সারোয়ার তাঁর কার্যালয়ে এসআই মো. জাহিদুল হাসানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে অভিযোগকারীর কাছে সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

অভিযোগকারী কাফিউল মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ গ্রামের আহসান উল্লাহর ছেলে। তিনি বর্তমানে পাশ্ববর্তী ইসলামপুর পৌর শহরের দক্ষিণ দরিয়াবাদ এলাকায় বসবাস করছেন। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, বেলা ১১টায় জামালপুর পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয় ভবনের নিচতলা পুলিশ কন্ট্রোলরুমে প্রবেশ করেন অভিযোগকারী কারফিউল। এরপর দুপুর সোয়া ২টায় তিনি বের হন। অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জামালপুর পুলিশ কন্ট্রোলরুমের পুলিশ পরিদর্শক মো. গোলাম সারোয়ারের কাছে এসআই মো. জাহিদুল হাসানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে টানা সোয়া তিন ঘণ্টা সাক্ষ্য দেন তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কাফিউলের ২২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে মাদারগঞ্জের পূর্ব সুখনগরী গ্রামের মৃত সোলায়মানের ছেলে সানাউল্লাহ। এনিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি সানাউল্লাহকে আসামি দিয়ে কাফিউলের স্ত্রী মেরিনা বেগম জামালপুর আদালতে মামলা করলে জামালপুরের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা রয়েছে মর্মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর আসামি ছানাউল্লাহ মামলা প্রত্যাহার করতে কাফিউলসহ তাঁর পরিবারের সদস্যকে বিভিন্ন ভয়-ভীতির হুমকি দেয়। এনিয়ে ১০ মার্চ সানাউল্লার বিরুদ্ধে আদালতে আরও একটি মামলা করেন মেরিনা বেগম। মামলাটি ইসলামপুর থানা-পুলিশ তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন দেন।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ২৭ মার্চ কাফিউলের বিরুদ্ধে ২৬ লাখ টাকা আত্মসাতের মনগড়া অভিযোগ তোলে আদালতে মামলা করে আসামি সানাউল্লাহ।

কাফিউলের দাবি, মামলায় উল্লেখিত সময় ও তারিখে ঘটনাস্থলে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ডাহা মিথ্যা। সবগুলো সাক্ষী সানাউল্লাহর আত্মীয়-স্বজন। এসত্ত্বেও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাহিদুল মোটা অংকের  টাকার বিনিময়ে সানাউল্লাহর পক্ষে আদালতে মনগড়া প্রতিবেদেন দাখিল করেছে। 

গত ৯ জুলাই আইনগত প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী কাফিউল জামালপুরের এসপি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। 

গত ২৭ জুলাই অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসআই জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দেওয়া হয় অভিযোগকারী কাফিউলকে।

অভিযোগকারী মো. কাফিউল বলেন, 'গতকাল বেলা ১১টা থেকে শুরু করে দুপুর সোয়া ২টা পর্যন্ত অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা তাঁর কার্যালয়ে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। আমি লিখিত সাক্ষ্য দিয়েছি। আশা রাখি, আইনগত প্রতিকার পাব।'

অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জামালপুর পুলিশ কন্ট্রোলরুমের পুলিশ পরিদর্শক মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, 'এসআই জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে অভিযোগকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ করেছি। তদন্ত শেষে আইনানুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024