|
Date: 2025-07-11 21:01:52 |
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মাছুরা বেগম (২৭) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত মাছুরা বেগম শ্যামনগর উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের আবু বক্কর গাজীর মেয়ে এবং একই এলাকার আব্দুস সোবহানের স্ত্রী। তাকে গ্রেপ্তারের সময় সঙ্গে ছিল তার পাঁচ বছর বয়সী কন্যাশিশু নেহা আক্তার তুষ্টি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পুরাতন সাতক্ষীরাস্থ জামায়াত অফিস সংলগ্ন গলির একটি ভাড়া বাসায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিলেন মাছুরা। সেখানে থেকে সে ইয়াবা বিক্রি ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, এসব অপরাধের কারণে সে কালিগঞ্জ ও শ্যামনগরের কয়েকটি ডাকাত দলের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে এবং এক পর্যায়ে ওই ডাকাত দলের এক সদস্যকে বিয়েও করে।
পুলিশ জানিয়েছে, মাছুরা বেগম শুধুমাত্র ডাকাত দলের সদস্যই নয়, বরং তিনি চোরাই স্বর্ণালংকার বিক্রির মূল হোতা হিসেবে কাজ করতেন। সম্প্রতি কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের মধুসূদন কর্মকারের বাড়িতে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় মাছুরার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, গত ৫ জুলাই দিবাগত রাতে ৫-৬ জনের একটি ডাকাত দল মধুসূদন কর্মকারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে, তার স্ত্রী ও ভাইকে ছুরি ও লোহার রড দিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। তারা ঘর থেকে ২২ হাজার টাকা, ৭ ভরি ৯ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার ও একটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। পরদিন (৬ জুলাই) মধুসূদন কর্মকার অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কালিগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
তদন্তকালে পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এবং নানা কৌশল অবলম্বন করে জানতে পারে, ডাকাত দলের সদস্যদের সঙ্গে মাছুরা বেগমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ডাকাতির পর লুট হওয়া স্বর্ণালংকার তার কাছে গচ্ছিত ছিল এবং সে তা গোপনে বিক্রি করেছে।
বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়, কিছুদিন আগে মাছুরা শ্যামনগরের একটি জুয়েলারি দোকানে ডাকাতির স্বর্ণ বিক্রি করেছে। এছাড়া তার ভাড়া বাসায় অস্ত্র ও মাদক মজুত রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া মাছুরা বেগমের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় আরও পাঁচটি মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডাকাতি চক্রের আরও সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
© Deshchitro 2024