|
Date: 2025-07-04 21:14:10 |
ভারতে স্বামীর মৃত্যুর পর মানবেতর জীবন, দেশে ফিরতে গিয়েই বিজিবির হাতে ধরা। ভারতে স্বামীর মৃত্যুর পর অসহায় জীবনযাপন করে অবশেষে তিন সন্তানকে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরতে চেয়েছিলেন সাজিদা খাতুন (৩৫)। তবে সেই ফেরা আর সহজ হলো না। সীমান্ত পেরোনোর সময় বিজিবির হাতে ধরা পড়লেন সন্তানসহ।
শুক্রবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী সীমান্তের কালিন্দি নদী পার হওয়ার সময় বিজিবি’র পরানপুর ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের আটক করে।
আটক গৃহবধূ সাজিদা খাতুনের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের মৃত রেজাউল করিমের বাড়ি। তার সঙ্গে আটক হওয়া তিন সন্তান হলো সাইফুল ইসলাম (১৬), পরাণ (১২) এবং ছোট্ট শিশু (৫)।
পরিবারের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে চোখে কান্না আর কণ্ঠে ভয়ের সুর নিয়েই সাজিদা জানান, ‘‘প্রায় পাঁচ-ছয় বছর আগে আমার স্বামী রেজাউল করিমের সঙ্গে আমরা কাজের সন্ধানে ভারতের হায়দরাবাদে গিয়েছিলাম। সেখানে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছিলাম। কয়েক বছর পর হঠাৎ করেই আমার স্বামী মারা যান। এরপর সন্তানদের নিয়ে আমি মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিলাম। অর্থকষ্টে খাবার জুটছিল না ঠিকমতো। তাই বাধ্য হয়ে দালালের সহযোগিতায় বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিই।’’
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরানপুর ক্যাম্পের একটি টহল দল সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ায়। শুক্রবার সকালে উত্তর কৈখালী সীমান্ত পয়েন্টে সন্দেহজনকভাবে নদী পার হতে দেখে তিন শিশুসহ এক নারীকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেন, তারা ভারত থেকে দালালের সহায়তায় অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করছিলেন।
পরানপুর বিজিবি ক্যাম্পের হাবিলদার আকরাম হোসেন জানান, "আটককৃত গৃহবধূ এবং তার সন্তানরা সীমান্তের কালিন্দি নদী পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছিলেন। তারা দীর্ঘদিন ভারতে অবস্থান করছিলেন এবং অবৈধভাবে ফেরার চেষ্টা করেন। আইন অনুযায়ী প্রাথমিক তদন্ত শেষে তাদের শ্যামনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।"
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হুমায়ুন কবির জানান, ‘‘বিজিবি আটককৃত মা ও সন্তানদের আমাদের হেফাজতে দিয়েছে। তাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই চলছে। প্রক্রিয়া শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মানবিক বিবেচনায় পরিবারের নিকট হস্তান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’
এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সীমান্ত দিয়ে এভাবে বহু নারী-পুরুষ দালালের মাধ্যমে ভারতে গমন ও আগমন করে থাকেন, যার বেশিরভাগই অনৈতিক ও মানবপাচারের শিকার হন।
এ অবস্থায় সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করার পাশাপাশি দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
© Deshchitro 2024