সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বর্তমানে চিকিৎসাসেবার নামে শুধুই নামমাত্র একটি প্রতিষ্ঠান। ৫০ শয্যার এই সরকারি হাসপাতালটি কার্যত চলছে মাত্র একজন মেডিকেল অফিসারের ওপর ভর করে। চিকিৎসক সংকট এতটাই প্রকট যে, জরুরি অবস্থা বা সাধারণ সেবার জন্য আসা রোগীরাও চিকিৎসা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।


দেবহাটা উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী কালিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলার মানুষজন চিকিৎসা নিতে এখানে আসেন। এক সময় সুনামধন্য ‘সখিপুর হাসপাতাল’ নামেই পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটিতে রোগীদের উপচে পড়া ভিড় থাকত, কিন্তু এখন চিত্র পুরোপুরি বিপরীত। হাসপাতালে চিকিৎসা নেই, নেই পরিপূর্ণ জনবল, নেই আধুনিক যন্ত্রপাতি চালুর ব্যবস্থা।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫০ শয্যার একটি হাসপাতালে যেখানে ১৫ জন বা তার বেশি মেডিকেল অফিসার থাকার কথা, সেখানে বর্তমান সময়ে দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র একজন চিকিৎসক। তত্ত্বাবধায়ক ডা. শফিকুল ইসলাম নিজেই স্বীকার করেছেন, জনবল সংকটে চিকিৎসা সেবা দেওয়া চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।


চলছে না এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, প্যাথলজিতেও দায়সারা পরীক্ষা

হাসপাতালের একমাত্র এক্স-রে মেশিনটি বহুদিন ধরে বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। আল্ট্রাসনোগ্রাম সেবা নেই বললেই চলে। প্যাথলজি বিভাগে যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক পরীক্ষা হচ্ছে না কিংবা হচ্ছে অনিয়মিতভাবে।


অপরিচ্ছন্নতা, পানির সংকট, খাদ্যের নিম্নমান

হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশও হাসপাতালবান্ধব নয়। ওয়ার্ডগুলো অপরিচ্ছন্ন, টয়লেট ব্যবহারের অনুপযুক্ত। রোগীদের জন্য নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা। খাবারের মান নিয়েও রয়েছে দীর্ঘদিনের অভিযোগ। রোগীরা বলছেন, হাসপাতালের খাবার খেয়ে রোগ আরও বাড়ে!


রোগীদের দুর্ভোগ চরমে

হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের অভিযোগ, চিকিৎসক না থাকায় তারা সঠিকভাবে চিকিৎসা পাচ্ছেন না। এক রোগী বলেন, "ডাক্তার না থাকায় আমাদের প্রয়োজনীয় ওষুধ বা ইনজেকশন পর্যন্ত কেউ ঠিকমতো দেয় না।" এক রোগীর স্বজন আনারুল ইসলাম জানান, "দেবহাটা আসার পর জানতে পারি ডাক্তারই নেই, বাধ্য হয়ে রোগী নিয়ে ফিরে যাচ্ছি।"


অব্যবহৃত সরকারি কোয়াটার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে

অন্যদিকে, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি আবাসন ব্যবস্থাও ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসক সংকট থাকলেও সরকারি কোয়াটার পড়ে আছে খালি, যা পরিকল্পনা ঘাটতিরই বড় প্রমাণ।


জনগণের প্রত্যাশা—দ্রুত সমাধান

এলাকাবাসীর দাবি, একজন মাত্র চিকিৎসকের ওপর ৫০ শয্যার হাসপাতাল চলা অসম্ভব। অবিলম্বে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিতে হবে। তা না হলে এই হাসপাতাল একসময় পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024