আবদুর রব সজল ধর্মপাশা উপজেলা প্রতিনিধি ঃ

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মহিষখলা থেকে উপজেলা সদরে যাতায়াতের একমাত্র সংযোগ সড়কটি বর্ষার পানিতে ধসে পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন এলাকার হাজারো মানুষ। বংশীকুন্ডা উত্তর ও বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষকসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষের যাতায়াতে সৃষ্টি হয়েছে চরম দুর্ভোগ। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকালে ধসে পড়া অংশে একটি মোটরসাইকেল পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। সৌভাগ্যক্রমে স্থানীয়দের সহযোগিতায় চালক প্রাণে রক্ষা পান। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা সেতুটি অবশেষে মাটি ধসে পড়ে সম্পূর্ণরূপে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহুদিন ধরেই সেতুটি জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্ষা এলেই এ সড়কের বিভিন্ন অংশে ধস নামা নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ ফরিদ মিয়া বলেন, এই জায়গাটিতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করে। বিশেষ করে রাত-বিরাতে রোগী নিয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি নিতে হয়। এখন তো পায়ে হেঁটে চলতেও ভয় পাচ্ছে মানুষ।

বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, “রাস্তার ভয়াবহ দুর্দশা আমি সরেজমিনে দেখেছি। এটি মানুষের চলাচলের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই বিষয়টি লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট দফতরে জানানো হবে, যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এখনই উদ্যোগ না নিলে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।” স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, রাস্তাটা আমাদের নিত্যদিনের জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িত। স্কুল-কলেজ, বাজার, হাসপাতাল, সব জায়গায় যাওয়ার জন্য এই রাস্তাই একমাত্র ভরসা। এখন সেই রাস্তাই ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। উপজেলার একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাসহ নানা ক্ষেত্রে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় জনগণের ক্ষোভ চরমে উঠেছে। এদিকে, এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটির সংস্কার ও বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় বলেন প্রতিদিন এ পথে হাজারো মানুষ চলাচল করে। দুর্ঘটনা ঘটার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে যে কোনো সময় প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024