|
Date: 2025-06-25 06:09:40 |
মাদক ব্যবসায় প্রশাসনের নাকের ডগায় বহাল তবিয়তে ‘সাম্রাজ্য’, জনমনে তীব্র ক্ষোভ।
সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর ও আশপাশের সীমান্ত এলাকায় মাদক কারবার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর শুরু হয় কোটি টাকার মাদক কেনাবেচা ও চোরাচালান। সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা থাকা সত্ত্বেও থেমে নেই এই অবৈধ ব্যবসা। সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আলোচিত মাদক কারবারি হালিম মাস্টার।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সীমান্তে জারি হয় অঘোষিত ‘রেড এলার্ট’। তারপরও ভোমরার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, এলএসডি ও বিদেশি মদ। এসব মাদকের বিনিময়ে ভারতে পাচার হচ্ছে স্বর্ণ। সদর উপজেলার ভোমরা, হাড়দ্দহা, লক্ষ্মীদাড়ি, ঘোষপাড়া ও ঘোনা-গাজীপুরসহ কয়েকটি সীমান্ত এলাকা এই চোরাচালানের মূল পথ।
পুরনো মাদক কারবারি আরশাদ আলী ওরফে ভোদু দুই যুগ ধরে পরিবারসহ এই ব্যবসার সাথে জড়িত। তার ছেলে শামীম বিজিবির হাতে মাদকসহ আটক হয়ে বর্তমানে জেলে। জামাই হালিম মাস্টার বসেই গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী মাদক নেটওয়ার্ক। ভোমরা টাওয়ার মোড়ে তার নিজ বাসা থেকেই চলে খুচরা ও পাইকারি মাদক বেচাকেনা। প্রতিদিন তার দুই সহকারী এই কাজ পরিচালনা করে।
এক সময় পুলিশের ক্রসফায়ারের ভয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া ভোদু তিন বছর আগে ফিরে এসে ফের সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তার পরিবারের সদস্যরা এখন লাখপতি। এলাকায় তৈরি হয়েছে তাদের বহুতল ভবন ও বিস্তৃত জমিজমা।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—একাধিক মাদক মামলার পরও কীভাবে প্রশাসনের চোখের সামনে এত বড় মাদক সাম্রাজ্য পরিচালনা করছেন হালিম মাস্টার?
এ ছাড়া নাটাপাড়ার তুহিন, আজিজুল ইসলাম পলতা, সাইদুল, হান্নান, ফারুক, রমজান, হাসান, বকুলসহ আরও অন্তত এক ডজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে গড়ে তুলেছে মাদক সিন্ডিকেট, যারা বছরের পর বছর ধরে সক্রিয়।
সুশীল সমাজের অভিযোগ, কিছু অসাধু পুলিশ, ডিবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং বিজিবি সদস্যদের গোপন সহযোগিতার কারণে এই মাদক চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।
ভোমরা বন্দরের একাধিক সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী বলেন, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ফলে দিন দিন সীমান্তে মাদক আগ্রাসন ও চক্রের দাপট বেড়ে চলেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশরাফুল হক বলেন,
“বিজিবি প্রতিদিন মাদকবিরোধী বিশেষ টহল পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করছে। সীমান্তে অপরাধ রোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, “ভোমরা সীমান্তের ৮ কিলোমিটার এলাকা পুরোপুরি বিজিবির নিয়ন্ত্রণাধীন। পুলিশ সেখানে স্বাধীনভাবে অভিযান চালাতে পারে না। তবে মাদক দমনে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—অসংখ্য মামলা, স্থানীয় প্রতিবাদ ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ সত্ত্বেও কেমন করে বহাল তবিয়তে চলছে হালিম মাস্টারের মাদক সাম্রাজ্য? প্রশাসনের কাছে জবাব চাইছে ভুক্তভোগী জনগণ।
© Deshchitro 2024