কমলগঞ্জে অভয় চরণ উচ্চ বিদ্যালয়ে সততা স্টোরের উদ্বোধন ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ গ্রামাঞ্চলে ইটের বদলে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারের করতে হবেঃবন ও পরিবেশ মন্ত্রী দেশীয় প্রযুক্তিতে নৌবাহিনীর নির্মিত টাগবোট ‘টিয়াখালী-৪’ লঞ্চিং: জাহাজ নির্মাণ শিল্পে নতুন মাইলফলক ‎ বাঘায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের গুলিতে একজন গুলিবিদ্ধ শার্শায় সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বাগআঁচড়ায় বিএনপির বিক্ষোভ ঈশ্বরগঞ্জে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী গ্রেফতার পবিপ্রবির বরিশাল ক্যাম্পাসে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস -২০২৬ পালিত রায়পুরে বাড়ির রাস্তা বন্ধের চেষ্টা, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা শেরপুরে ‘আনসাং ওমেন নেশন বিল্ডার্স অ্যাওয়ার্ড’ বিজয়ী সমাজকর্মী রাজিয়া সামাদকে সংবর্ধনা বেগমগঞ্জে ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ১ আসামী গ্রেপ্তার শেরপুরে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা তেলের ধাক্কায় বাড়ছে কৃষি উৎপাদন খরচ বিঘাপ্রতি ব্যয় বেড়েছে, ফসলের ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কায় গোয়ালন্দের কৃষক গোয়ালন্দে মাদক নির্মূলে অভিভাবক সমাবেশ শিক্ষার্থীদের প্রতি অভিভাবকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান শ্যামনগরে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস পালিত। শ্যামনগরে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস পালিত। সাতক্ষীরায় ‎আশাশুনিতে ভাঙনের মুখে বেড়িবাঁধ : ‎হাজার বিঘার মৎস্যঘের ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রূপালী ব্যাংকের গোপীনাথপুর শাখার নতুন ভবনের উদ্বোধন ইসলামপুর উপজেলা কৃষকদলের সভাপতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল, সংবাদ সম্মেলন ডেকে বিএনপির প্রতিবাদ মিরসরাইয়ে লায়ন্স ক্লাবের দিনব্যাপী সার্ভিস প্রোগ্রাম নিয়োগপত্র পাচ্ছেন প্রাথমিকের চাকরিবঞ্চিতরা

আশ্রয় পেয়েও রেহাই নেই: সাতক্ষীরায় বাস্তুচ্যুতদের ঘিরে ময়লার ছায়া



১৯৮৮ সালের ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ের পর শ্যামনগরের নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে স্বামী মুনতাজ আলীকে নিয়ে সাতক্ষীরা শহরের কামালনগরে আশ্রয় নিয়েছিলেন রিজিয়া বেগম। চার দশক পেরিয়ে গেছে, বয়স হয়েছে ৬৫, কিন্তু দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। আগের প্রাকৃতিক দুর্যোগের বদলে এখন নতুন সংকট— ময়লা-আবর্জনায় ঘেরা বিষাক্ত পরিবেশ।


“ঘরের সামনের বাগানেই ময়লা ফেলা হয়। নিষেধ করলে শোনে না কেউ। জায়গার মালিকই বলে ফেলতে, কিন্তু আমার দরজার সামনে কেন?”—প্রশ্ন রিজিয়ার।


ঘরহীন মানুষের ভিড়ে হাঁসফাঁস শহর:

জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় আশাশুনি, শ্যামনগর, কালিগঞ্জসহ উপকূলীয় এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে সাতক্ষীরা শহরে আশ্রয় নিয়েছে হাজার হাজার পরিবার।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা শহরের মোট জনসংখ্যা ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৯৭ জনের মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার মানুষই বাস্তুচ্যুত।


এসব মানুষ শহরের কামালনগর, বোসপাড়া, লিচুতলা, রাজারবাগানসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠা বস্তিতে মানবেতর জীবনযাপন করছে। নেই ডাস্টবিন, নেই সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। রাস্তাঘাট, পুকুর কিংবা বাড়ির গেটের সামনেই ফেলা হচ্ছে আবর্জনা।


দক্ষিণ কামালনগরের বাসিন্দা জাহিদা বেগম বললেন, “জায়গা নাই, ডাস্টবিন নাই, কোথায় ফেলবো? সবাই ফেলে, আমিও ফেলি। জানি রোগ হবে, কিন্তু করবো কী?”


ময়লা জমে শহরের ফুসফুস বন্ধ:

সাতক্ষীরা পৌরসভার কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর মোঃ ইদ্রিস আলী বলেন, “শহরে প্রায় ৫০-৫৫টি ডাস্টবিন আছে। নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়। তবে যানবাহন সংকট আমাদের বড় সমস্যা। মাত্র দুটি গাড়ি দিয়ে ৯টি ওয়ার্ডে কাজ চালানো কঠিন।”


পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকলেও ডাস্টবিনের সংকট, সরু গলি, যানজট ও বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে পুরো শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যত ভেঙে পড়েছে।


শিশু ও বৃদ্ধদের শ্বাসে বিষ:

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ কুদরত-ই-খুদা বলেন, “বর্জ্য থেকে নির্গত অ্যামোনিয়া, সালফারসহ বিষাক্ত গ্যাস শিশুদের ফুসফুসে ঢুকছে। এতে ডায়রিয়া, চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট, লিভার ও ফুসফুসজনিত সমস্যা বেড়েছে।”


শহরে জলবায়ু সংকটের নতুন রূপ: ‘নগর দুর্যোগ’:

পরিবেশবিদ ও উন্নয়নকর্মীরা বলছেন, সাতক্ষীরা এখন একটি নগর দুর্যোগের মুখে। উপকূল থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে শহরে এসে বসতি গড়া মানুষদের তৈরি বর্জ্য সঠিকভাবে অপসারণ না হওয়ায় শহরের পরিবেশ ভয়াবহভাবে দূষিত হচ্ছে।


প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব-এর সভাপতি এড. মুনির উদ্দীন বলেন, “সাতক্ষীরা শহরের চারপাশে এখন প্রায় ৪৭টি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বস্তি রয়েছে। সেখানে না আছে পরিকল্পিত বসতি, না আছে স্যানিটেশন বা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। ফলে শুধু আশ্রয় পাওয়া নয়, প্রতিনিয়তই নতুন দুর্যোগে পড়ছে মানুষ।”


প্রশাসনের স্বীকারোক্তি: সীমাবদ্ধতা আছে-

সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রশাসক মাশরুবা ফেরদাউস জানান, “বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমাদের বড় সীমাবদ্ধতা হলো বাজেট ও জায়গার সংকট। নতুন ল্যান্ডফিল বা ডাস্টবিন বসানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় বাধা আসে। পুরনো অবকাঠামো ও দ্রুত নগরায়নের চাপে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া যাচ্ছে না।”


সমাধান কী?

পরিবেশবিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাধানের জন্য জরুরি কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে:

১. শহরের বাইরে আধুনিক ল্যান্ডফিল স্থাপন।

২. প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিউনিটি ডাস্টবিন।

৩. পৌরসভার জনবল ও বাজেট বৃদ্ধি।

৪. বাড়ি ও স্কুলভিত্তিক বর্জ্য সচেতনতা।

৫. স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বিত কর্মসূচি।

৬. স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ।


সবার জন্যই এই দায়: 

এখনকার বর্জ্য আর শুধু দুর্গন্ধ নয়—এটি জলবায়ু সংকটের অংশ। শহরের প্রতিটি বাসিন্দা, প্রশাসন ও সরকার—সবারই দায়িত্ব আছে এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসার। বাস্তুচ্যুত মানুষেরা আশ্রয় চেয়েছে, কিন্তু এখন তারা আশ্রয়েই বেঁচে থাকার লড়াইয়ে হেরে যাচ্ছে।


পরিবেশ রক্ষা, নাগরিক স্বাস্থ্য রক্ষা ও টেকসই শহর গড়ার জন্য এখনই দরকার সমন্বিত ও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।

Tag
আরও খবর