সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার হোক দুর্গাপূজায় দেবহাটায় শামীম হত্যা মামলায় ফজলুল হক আমিনী গ্রেপ্তার লোহাগাড়ায় ভাড়া বাসা থেকে কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সাতকানিয়ায় চুরির অপবাদে যুবককে পিটিয়ে হত্যা তালাক বন্ধ করেছে ফ্যামিলি কার্ড: চিফ হুইপ বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের ভাতা বাড়ানো হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী সাব্বির আহমেদ রনিকে চেয়ারম্যান করে BJUS-এর ২২ সদস্যের বোর্ড কমিটি গঠন মিরসরাইয়ে হাইতকান্দি ইউপিতে জামায়াতের চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থী ঘোষণা চিলাহাটির পূজামণ্ডপে অনুদান বিতরণ ডোমারে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আনসার কম্যান্ড্যান্ট নাঙ্গলকোটের ৬নং মক্রমপুরে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাইফুল মালেক শিপন নন্দীগ্রামে ৪৫০ পিস ইয়াবাসহ কারবারি হোসেন আলী আবারও গ্রেফতার মিরসরাইয়ে ১৩তম বিজলী শিক্ষোন্নয়ন বৃত্তি পেল ৭৭ শিক্ষার্থী উৎসবমুখর পরিবেশে হাতিয়ায় ফারিয়ার নির্বাচন অনুষ্ঠিত বরিশালের দক্ষিণ চকবাজার ও ফজলুল হক এভিনিউয়ে বিসিসির মোবাইল কোর্ট অভিযান সাংবাদিক আলিফ হত্যা: বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে চৌদ্দগ্রামে মানববন্ধন আজ প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন পীরগাছায় নেকমামুদ আপডেট পাবলিক স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা জাতীয় নেতা আব্দুল মালেক উকিলের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ তবকপুর বাজার আলোকিত শিশু কন্ঠ পরিষদের উদ্যোগে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের সোনালি আঁশ

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ‘সোনালী আঁশ’ পাটের সোনালী দিন আজ অনেকটাই স্মৃতির পাতায়। তবে সেই হারিয়ে যাওয়া জৌলুসের মাঝেও বুক ভরা আশা নিয়ে বেঁচে আছেন দেশের প্রান্তিক পাট চাষিরা। কষ্টার্জিত এই পাট বিক্রির টাকা দিয়েই এখনো ঘোরে অনেকের সংসারের চাকা।

মাঠ থেকে পাট কাটার পর তা থেকে আঁশ ছাড়ানো এবং শুকানোর পুরো প্রক্রিয়ায় রয়েছে কৃষকদের নিপুণ হাতের ছোঁয়া। ভালো মানের সোনালী রঙ পাওয়ার জন্য কৃষকেরা অত্যন্ত যত্নের সাথে প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করেন। পাট কাটার পর প্রথমে সেগুলোকে এক জায়গায় স্তূপ বা ‘পালা’ দিয়ে রাখা হয়। এরপর পাতা ঝরে গেলে তা পানিতে ডোবানো বা ‘জাগ’ দেওয়া হয়।

বাজারে পাটের দর প্রায়ই ওঠানামা করে। প্রতি মণ পাট ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা বা তার বেশি দরেও বিক্রি হয়ে থাকে। তবে পাটের পরিচ্ছন্নতা এবং রঙের উজ্জ্বলতার ওপর দাম অনেকটাই নির্ভর করে। 

পাটের আঁশ থেকে চট, বস্তা ও বিভিন্ন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দড়ি তৈরি হয়। অন্যদিকে, আঁশ ছাড়ানোর পর অবশিষ্ট অংশ অর্থাৎ পাটখড়ি (যা স্থানীয় ভাষায় ‘সিন্থরা’ বা ‘সিনে ঠংড়া’ নামে পরিচিত) গ্রামীণ রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবে বিপুলভাবে ব্যবহৃত হয়। 

ময়মনসিংহে বিগত বছরের থেকে এ বছরে ১ হাজার ২০০ হেক্টরের বেশি জমিতে কম হয়েছে পাটের চাষাবাদ। এতে হারিয়ে যেতে বসেছে সোনালি আঁশের সুদিন। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, পাট চাষ কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো এবারের বৈরী আবহাওয়া। তীব্র তাপপ্রবাহের পাশাপাশি বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অতিরিক্ত খরা দেখা দিয়েছে। পুকুর-ডোবা সব শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। 

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা বলেন, অতিরিক্ত খরার কারণে কৃষকরা এ বছর পাটের চাষ কমিয়ে দিয়ে ভুট্টা চাষ বেশি করেছেন। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সব ধরনের ফসল চাষাবাদের ক্ষেত্রেই পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। যেসব কৃষক জমিতে পাট চাষ করেছেন তাদের আমরা অবগত করেছি যে এমন বৈরী আবহাওয়ার কারণে পাটে সেচের ব্যবস্থা রাখার জন্য। এ ছাড়াও মাঠ পর্যায়ে আমাদের কর্মীরা কৃষকের সঙ্গে যোগাযোগ করে সঠিক পরামর্শ দিচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, খাল-বিল ও জলাশয় পুনঃখনন করে পাট জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে ময়মনসিংহ জেলায় আবারও ফিরতে পারে সোনালি আঁশের হারানো ঐতিহ্য। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব এ অর্থকরী ফসলের উৎপাদন বাড়লে কৃষকের আয় যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি দেশের রপ্তানি আয় ও অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

Tag
আরও খবর