কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানাধীন মুচনী ক্যাম্পের শালবাগান পাহাড় এলাকার গহীন দুর্গম স্থানে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান পরিচালনা করে অপহরণের শিকার ০৩ জন ভিকটিমকে উদ্ধার এবং অপহরণচক্রের সঙ্গে জড়িত একজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৫, সিপিসি-১, টেকনাফ, কক্সবাজার।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং উখিয়া থানার সাধারণ ডায়েরির প্রেক্ষিতে সিপিসি-১, টেকনাফের একটি আভিযানিক দল অপহৃত ভিকটিমদের উদ্ধারে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গত ০৪ আগস্ট ২০২৬ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ৯:১০ ঘটিকায় টেকনাফ থানাধীন মুচনী ক্যাম্পের শালবাগান পাহাড়ের গহীন দুর্গম এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অপহরণের শিকার ০৩ জন ভিকটিমকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত ভিকটিমগণ সকলই কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানাধীন পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী ১৭ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্প (ব্লক-বি-৮১)এর বাসিন্দা ১। মোঃ আয়াছ (১৮), পিতা- মোঃ ইউনুছ, মাতা- ফাতেমা খাতুন। ২। মোঃ ইয়াছিন (২৮), পিতা- মুসলিম, মাতা- হালিমা খাতুন। ৩। জোবাইর (২৫), পিতা- ছৈয়দ হোছন।
উদ্ধারকৃত ভিকটিমদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখে তারা টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মুচনী ক্যাম্পে আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়ে ফেরার পথে অপহরণের শিকার হন। অপহরণকারীরা তাদের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায় এবং পরিবারের সদস্যদের নিকট ৬ (ছয়) লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণের অর্থ প্রদান না করায় তাদের উপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বৃদ্ধি করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
উদ্ধারকৃত ভিকটিমদের দেওয়া তথ্য মতে টেকনাফ থানাধীন মুচনী রেজিস্টার-০১ নং ক্যাম্পের ব্লক-ডি এলাকার বটগাছতলা এলাকায় পৃথক একটি অভিযান পরিচালনা করে অপহরণের সঙ্গে জড়িত হাফেজ আহম্মেদ(৫৩), পিতা- মৃত রশিদ আহম্মদ, মাতা- আছিমা খাতুন, FCN No-30170-A, গ্রাম- মুচনী রেজিস্টার ক্যাম্প-০১, ব্লক-ডি, রুম নং-৬, ইউনিয়ন- হ্নীলা, থানা- টেকনাফ, জেলা- কক্সবাজারকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি অপহরণচক্রের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই ঘটনায় ভিকটিমদের অভিযোগের ভিত্তিতে উখিয়া থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামি এবং উদ্ধারকৃত ভিকটিমদের উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে সর্বদা পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
১ ঘন্টা ৩৫ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে