লাখাইয়ে পল্লী বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিল, এবং ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং, বিভিন্ন মহলের ক্ষোভ।
লাখাইয়ে পল্লী বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিল, এবং ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং, বিভিন্ন মহলের ক্ষোভ।
লাখাইয়ে একদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং, অন্যদিকে ডিজিটাল বিদ্যুৎ মিটারে অস্বাভাবিক বিল কেটে নেওয়ার অভিযোগ। বিদ্যুৎ-সংকটের এই দ্বিমুখী চাপে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন গ্রাহকরা। কয়েক মাস ধরে গ্রাহকদের পক্ষ থেকে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, জুন ও জুলাই মাসে বিলের নামে গ্রাহকের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিদ্যুতের ব্যবহার প্রায় আগের মতো থাকলেও বিল বেড়েছে দ্বিগুণ, কোথাও কোথাও তিন গুণ পর্যন্ত। অনেকের ভাষায়, এটি বিদ্যুৎ বিল নয়, বিলের নামে প্রকাশ্য ‘ডাকাতি’।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের তুলনায় গ্রামে বেশি লোডশেডিং হওয়ায় বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। গ্রাহকদের প্রশ্ন, যখন কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎই পাওয়া যাচ্ছে না, তখন অস্বাভাবিক বিলের বোঝা কেন?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিদিন অসংখ্য গ্রাহক রিচার্জের তথ্য ও মিটারের ছবি প্রকাশ করে অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেওয়ার অভিযোগ তুলছেন। অনেকের দাবি, আগে যেখানে মাসে এক থেকে দেড় হাজার টাকায় বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা যেত, এখন একই ব্যবহারে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টিকে বিচ্ছিন্ন অভিযোগ বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। ডিজিটাল মিটারের সফটওয়্যার, কনফিগারেশন, ওভার-রিডিং কিংবা বিলিং ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি বা অনিয়ম রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে তদন্ত করা জরুরি। তাদের মতে, ডিজিটাল ব্যবস্থায় যদি অনিয়ম ঘটে থাকে, তবে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতেই হবে।
সচেতন মহল মনে করেন, মিটার রিডিং না দেখেই জুন জুলাই মাসে মনগড়া ও ‘ভুতুড়ে’ অতিরিক্ত বিল ধরিয়ে দেন হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-এর আওতাধীন লাখাই জোনাল অফিস। হঠাৎ করে বিদ্যুৎ বিল দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ হয়ে যাওয়ায় চরম ক্ষোভ ও বিপাকে পড়েছেন লাখাই উপজেলার শত শত সাধারণ গ্রাহক। ভুক্তভোগীদের দাবি, কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তৈরি করা এই অস্বাভাবিক বিলের বোঝা তাদের ওপর অন্যায়ভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই গ্রাহকদের একটি বড় অংশই চলতি মাসের বিল হাতে পেয়ে হতবাক হয়ে গেছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদ্যুতের দাম বাড়লেও বিলের অঙ্ক যেভাবে লাফিয়ে বেড়েছে, তা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। যেখানে আগে একটি পরিবারের মাসিক বিদ্যুৎ বিল আসত ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, সেখানে চলতি জুনে জুলাই তাদের বিল গুনতে হচ্ছে ১ থেকে ২ হাজার টাকা।
আজদু মিয়া নামে এক ভুক্তভোগী গ্রাহক তার বিলের কাগজ দেখিয়ে বলেন, ‘গত মাসে আমার বিদ্যুৎ বিল ছিল ৬৪৬ টাকা এবং ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ৬০ ইউনিট। অথচ জুলাই মাসে এসে সেই বিল দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৭২ টাকা আর ব্যবহারের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১১০ ইউনিট। আমাদের এলাকার প্রায় প্রতিটি ঘরের বিল এই মাসে দ্বিগুণ করে দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিলের এই ভুতুড়ে কাণ্ড ও গ্রাহক হয়রানির বিষয়ে জানতে চাইলে লাখাই জোনাল অফিসের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) সুমন সাহার মুটোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে উনি ফোন রিসিভ করেননি, যার কারনে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।