যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেলেন মৌসুমী জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা প্রতিটি সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট রাখতে হবে : রাষ্ট্রপতি মহাষ্টমী: দেবীবন্দনা ও আমাদের সার্থকতা -সচ্চিদানন্দ দে সদয় পীরগাছায় ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন !! তদন্ত প্রতিবেদনে অনিয়ম ও অর্থ দাবির অভিযোগ সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার হোক দুর্গাপূজায় দেবহাটায় শামীম হত্যা মামলায় ফজলুল হক আমিনী গ্রেপ্তার লোহাগাড়ায় ভাড়া বাসা থেকে কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সাতকানিয়ায় চুরির অপবাদে যুবককে পিটিয়ে হত্যা রায়পুরে মন্দিরে কাজ করতে গিয়ে ইলেকট্রিশিয়ানের মৃত্যু আদমদীঘিতে কারা নির্যাতিত বিএনপির নেতাকর্মীদের গণসংবধনা তালাক বন্ধ করেছে ফ্যামিলি কার্ড: চিফ হুইপ বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের ভাতা বাড়ানো হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী সাব্বির আহমেদ রনিকে চেয়ারম্যান করে BJUS-এর ২২ সদস্যের বোর্ড কমিটি গঠন মিরসরাইয়ে হাইতকান্দি ইউপিতে জামায়াতের চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থী ঘোষণা চিলাহাটির পূজামণ্ডপে অনুদান বিতরণ ডোমারে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আনসার কম্যান্ড্যান্ট নাঙ্গলকোটের ৬নং মক্রমপুরে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাইফুল মালেক শিপন নন্দীগ্রামে ৪৫০ পিস ইয়াবাসহ কারবারি হোসেন আলী আবারও গ্রেফতার মিরসরাইয়ে ১৩তম বিজলী শিক্ষোন্নয়ন বৃত্তি পেল ৭৭ শিক্ষার্থী

‎মোংলায় উপকূলীয় মানুষের দোরগোড়ায় কোস্ট গার্ডের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ

ছবি সংগৃহীত

মোংলা প্রতিনিধিঃ 
‎
‎বাগেরহাটের মোংলায় জয়মনি উচ্চ বিদ্যালয়ে মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন পরিচালনার মাধ্যমে ২২১ জন অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সামগ্রী প্রদান করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

‎বাগেরহাটের মোংলায় উপকূলীয় অঞ্চলের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বেইস মোংলার ব্যবস্থাপনায় একটি বিশেষ মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়েছে। গত বুধবার ২৪ জুন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মোংলা থানাধীন জয়মনি উচ্চ বিদ্যালয়ে এই চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজনের তথ্যমতে, উপকূলীয় এবং নদী তীরবর্তী এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষের জরুরি স্বাস্থ্য চাহিদা মেটানোর অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মূলত ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন এবং স্বাস্থ্যসেবা থেকে পিছিয়ে থাকা জনপদগুলোকে মূলধারার সেবার আওতায় নিয়ে আসাই ছিল এই ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য, যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রোগ নির্ণয় ও ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়।
‎
‎ক্যাম্পেইন চলাকালীন জয়মনি এলাকার প্রায় ২২১ জন অসহায়, দরিদ্র এবং শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত থাকা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এই ক্যাম্পেইনটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানকার অধিকাংশ মানুষ অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন না। ভুক্তভোগী স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, জয়মনি এলাকায় সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে মানসম্মত হাসপাতাল বা ওষুধের সহজলভ্যতা নেই, ফলে সামান্য অসুস্থতাতেও তাদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মোংলা সদর বা জেলা শহরে যেতে হয়। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে তারা শুধুমাত্র প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নয়, বরং প্রয়োজনীয় ওষুধও বিনামূল্যে পেয়েছেন, যা তাদের দৈনন্দিন স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সরাসরি ভূমিকা রেখেছে। ভুক্তভোগীরা জানান, স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের নিয়মিত উদ্যোগ তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।
‎
‎চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের বিষয়ে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সূচনালগ্ন থেকেই বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা ও জনসেবামূলক কাজে নিয়োজিত রয়েছে। লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্পষ্ট করেছেন যে, এই মেডিক্যাল ক্যাম্পেইনটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি কোস্ট গার্ডের চলমান জনসেবামূলক কর্মসূচির একটি ধারাবাহিক অংশ। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় এবং বেইস মোংলার তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই কার্যক্রমে উপস্থিত স্বাস্থ্যকর্মীরা স্থানীয়দের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেও বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেছেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসেবামূলক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে, যাতে দুর্গম এলাকার সাধারণ মানুষ নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।
‎
‎মোংলার জয়মনিতে কোস্ট গার্ডের এই উদ্যোগটি উপকূলীয় জনপদে স্বাস্থ্যসেবার অভাব পূরণে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তবে কেবল বিশেষ ক্যাম্পেইনের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় পর্যায়ে স্থায়ী স্বাস্থ্য অবকাঠামো এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। যদি পরিবহন ও ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ তৈরি করা যায়, তবেই উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি দীর্ঘমেয়াদে হ্রাস পাবে। কোস্ট গার্ডের এই ধরণের মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতে অন্যান্য সংস্থার জন্যও একটি রোল মডেল হিসেবে কাজ করবে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও স্বাস্থ্যগত সংকট নিরসনে নতুন আশার সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‎
‎

আরও খবর