তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসায় আলিম প্রথম বর্ষের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত শান্তিগঞ্জে পিএফজি ও ওয়াইপিএজি'র ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত ঢাকায় পেশাদার বারিস্তা গড়ে তুলছে DSCA, দেশের প্রথম ISO-সার্টিফায়েড কফি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান উলিপুরে ছাত্র হিযবুল্লাহ্ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার কাউন্সিল ও সম্মেলন অনুষ্ঠিত শার্শায় মোবাইলে ভিডিও ধারন করে প্রবাসী স্ত্রীর আত্মহত্যা সাতকানিয়ায় ‘মৌসুমী হিজড়া’র বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সুরক্ষায় সেরার স্বীকৃতি পেলো শেরপুর জেলা প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেলেন মৌসুমী জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা প্রতিটি সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট রাখতে হবে : রাষ্ট্রপতি মহাষ্টমী: দেবীবন্দনা ও আমাদের সার্থকতা -সচ্চিদানন্দ দে সদয় পীরগাছায় ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন !! তদন্ত প্রতিবেদনে অনিয়ম ও অর্থ দাবির অভিযোগ সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার হোক দুর্গাপূজায় দেবহাটায় শামীম হত্যা মামলায় ফজলুল হক আমিনী গ্রেপ্তার লোহাগাড়ায় ভাড়া বাসা থেকে কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সাতকানিয়ায় চুরির অপবাদে যুবককে পিটিয়ে হত্যা রায়পুরে মন্দিরে কাজ করতে গিয়ে ইলেকট্রিশিয়ানের মৃত্যু আদমদীঘিতে কারা নির্যাতিত বিএনপির নেতাকর্মীদের গণসংবধনা তালাক বন্ধ করেছে ফ্যামিলি কার্ড: চিফ হুইপ বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের ভাতা বাড়ানো হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

সরকারি বাঙলা কলেজে "বাঙলার ৬২" উদযাপন।

সরকারি বাঙলা কলেজের ৬২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে "বাঙলার ৬২" শিরোনামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার আয়োজন করে কলেজটির সাধারণ শিক্ষার্থীরা। নানা আয়োজন আর আনন্দ উল্লাসের মধ্য দিয়ে দিনটিকে উপভোগ করেন কলেজের সাবেক-বর্তমানরা। উল্লেখ্য যে, ১৯৬২ সালের ১লা অক্টোবর তমুদ্দিন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা ও ভাষা সৈনিক অধ্যাপক আবুল কাশেমের হাত ধরে সরকারি বাঙলা কলেজ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। 


সকাল দশটার সময় জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে এ-র আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল আবুল কাশেমের কবর জিয়ারত, চব্বিশের কোটা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ এবং মোনাজাতের মাধ্যমে তাঁদের জন্য দোয়া করা হয়। 


অনুষ্ঠানের একটি অংশজুড়ে ছিল ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের একাদশে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানপর্ব। এই পর্বে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় কলেজ প্রশাসন।


একদিকে "কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী" অন্যদিকে  "অ্যাশেজ ব্যান্ডের" আগমনকে কেন্দ্র করে দর্শকের ঢল নামে। সেই ঢলের একেকটি ফোঁটা হয়ে কলেজের নবীন-প্রবীনেরা ছুটে আসে দেশের নানা জায়গা থেকে। "বাঙলার ৬২" অনুষ্ঠানে চোখ ধাঁধানো দর্শক আর মন মাতানো আয়োজনে যেন নতুন ভাবে উজ্জীবিত হয়ে উঠে কলেজের প্রতিটি শিক্ষার্থী। 


এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিন পর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বড় কোনো আয়োজন করা হয়েছে। এই "বাঙলার ৬২" অনুষ্ঠানে এসে আমরা শিক্ষার্থীরা গর্বিত অনুভব করছি। যারা আসে নাই তাঁরা অনেক বড় কিছু মিস করেছে। এরকম আয়োজন সামনে আরো হবে বলে আমরা আশাবাদী। 


আয়োজক কমিটির সাথে কথা বললে দৈনিক দেশচিত্রকে জানায়, "বাঙলার ৬২" অনুষ্ঠানটি শুধুমাত্র কলেজের সাবেক এবং বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে একটি নির্দিষ্ট রেজিষ্ট্রেশনের ব্যবস্থা করা হয়। যেন বহিরাগত কেউ সহজেই প্রবেশ করতে না পারে। সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অতিথিদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং স্থানীয় আরও দুইটি থানা থেকে পুলিশের অনেকগুলো টিম আমাদের সাথে আছে। তাছাড়াও বিএনসিসি,রোভার স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট এবং স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে শৃঙ্খলা রক্ষা করা হয়েছে। 


  উক্ত অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন বাঙলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো: কামরুল হাসান। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ নিয়াজ আহমেদ খান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক এ বি এম রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন।


প্রধান অতিথির আগমনের পর বিএনসিসি এবং রোভার স্কাউট মিলে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। প্রধান অতিথি সহ অন্যান্য অতিথিকে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুল এবং ক্রেস্ট দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। 


প্রধান অতিথির ভাষণে ঢাবি উপাচার্য বলেন, "বাঙলা" নামটির মধ্যে ইতিহাস ঐতিহ্য এবং জাতীয়তাবাদী একটি চেতনা আছে। এই বাঙলা কলেজ দেশের অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান; তথা এটি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের প্রতিষ্ঠান। এর ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে হবে। 

সাত কলেজ নিয়ে তিনি আরও বলেন, সাত কলেজের সমস্যাটি একটি পুঞ্জীভূত সমস্যা। সমস্যা গুলোকে রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়।ধীরে ধীরে এর সমাধান করা হবে। 


এছাড়াও মাউশির ডিজি অধ্যাপক রেজাউল করিম কলেজের ইতিহাস এবং সৌন্দর্য নিয়ে বলেন, ঢাকার কলেজগুলোর মধ্যে "বাঙলা কলেজের" উন্মুক্ত ক্যাম্পাস, প্রকৃতিঘেরা মনোরম পরিবেশ আমাকে বিভূবিত করে। এই কলেজে শিক্ষকতা করতে পারলে আমি গর্বিত অনুভব করতাম।


কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল আবুল কাশেমের ছেলে- মাহমুদ বিন কাশেম দেশচিত্রকে বলেন, প্রতিষ্ঠা কালীন সময় থেকে বাংলাদেশে "বাঙলা কলেজের" অবদান অনেক। ভাষাবিদ ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, অধ্যাপক আবুল কাশেম এবং প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ সহ আরো কয়েক জনের সভায় এই কলেজটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাংলাদেশে একটি বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পদক্ষেপ এবং বাংলা ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম করার জন্য "বাঙলা কলেজ" প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। "বাঙলা কলেজ" যখন প্রতিষ্ঠা করা হয় তখন উচ্চশিক্ষায় বাংলা কোনো পাঠ্যপুস্তক ছিল না। বাঙলা কলেজের উদ্যোগে তখন ৪০ টি পাঠ্যপুস্তক রচনা এবং দুই হাজারের বেশি পরিভাষা তৈরি করা হয়। অন্যান্য অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি এটিকে বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয় করার পাশাপাশি উন্নত গবেষণাগার বানানোর জন্য সরকারের নিকট আহ্বান জানান। 

আরও খবর