শ্যামনগরে দুর্গা পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ড.মনিরুজ্জামান লাখাইয়ে পুজা মণ্ডপ পরিদর্শনে লাখাই প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ। সাংবাদিকদের উদ্দেশে এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু বললেন, 'আমি যদি দুর্নীতি করি, সেটাও লিখবেন' তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসায় আলিম প্রথম বর্ষের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত শান্তিগঞ্জে পিএফজি ও ওয়াইপিএজি'র ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত ঢাকায় পেশাদার বারিস্তা গড়ে তুলছে DSCA, দেশের প্রথম ISO-সার্টিফায়েড কফি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান উলিপুরে ছাত্র হিযবুল্লাহ্ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার কাউন্সিল ও সম্মেলন অনুষ্ঠিত শার্শায় মোবাইলে ভিডিও ধারন করে প্রবাসী স্ত্রীর আত্মহত্যা সাতকানিয়ায় ‘মৌসুমী হিজড়া’র বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সুরক্ষায় সেরার স্বীকৃতি পেলো শেরপুর জেলা প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেলেন মৌসুমী জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা প্রতিটি সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট রাখতে হবে : রাষ্ট্রপতি মহাষ্টমী: দেবীবন্দনা ও আমাদের সার্থকতা -সচ্চিদানন্দ দে সদয় পীরগাছায় ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন !! তদন্ত প্রতিবেদনে অনিয়ম ও অর্থ দাবির অভিযোগ সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার হোক দুর্গাপূজায় দেবহাটায় শামীম হত্যা মামলায় ফজলুল হক আমিনী গ্রেপ্তার লোহাগাড়ায় ভাড়া বাসা থেকে কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সাতকানিয়ায় চুরির অপবাদে যুবককে পিটিয়ে হত্যা রায়পুরে মন্দিরে কাজ করতে গিয়ে ইলেকট্রিশিয়ানের মৃত্যু

গোদাগাড়ীতে গরুর ল্যাম্পি স্কীন রোগ, দুশ্চিন্তায় গৃহস্থরা

গরুর ল্যাম্পি স্কীন রোগ দেখা দিয়েছে গোদাগাড়ী উপজেলায়। রোগে এ পর্যন্ত কোন গরুর মৃত্যুর খবর জানা না গেলেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শতশত গরু আক্রান্ত হয়েছে। প্রায় প্রতিটি গৃহস্থের দুই/একটি করে গরু এ রোগে আক্রান্ত হওয়ায় খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ রোগে গরু আক্রান্ত হওয়ায় ও চিকিৎসা খুবই ব্যয় বহুল হওয়ার কারনে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন গরুর গৃহস্থরা। 

তারা জানান, গরু এ রোগে আক্রান্ত হলে প্রথমে গায়ে গোল গোল ফোস্কার মত ফুলে যায়। পরে মুখে ঘা হয় এবং পা ফুলে গিয়ে গরু দুর্বল হয়ে পড়ে এবং গরু মারা যায়।

বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের বিভিন্ন জেলাতে গরু লাম্পি স্কিন ডিজিজ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে । রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলায় ব্যপক হারে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। এটি গরুর একটা ভাইরাস জনিত চর্মরোগ, যা গিরোস্ত ওÍ খামারির ক্ষতির কারন।

এই ভাইরাস জনিত রোগটি আফ্রিকার জাম্বিয়ায় প্রথম দেখা যায়, ১৯২৯ সালে। আফ্রিকাতে এই রোগে গরুর মৃত্য হার ৪০%। আফ্রিকাতে একাধিকবার মহামারি দেখা দিলেও আমাদের দেশে এই রোগের বিস্তার এখনো মহামারি আকারে দেখা যায় নাই। অর্থনৈতিকভাবে একটি খামারকে ধসিয়ে দেওয়ার জন্য খুরা রোগের থেকে বেশি ভয়ংকর হিসাবে ধরা হয়ে থাকে এই রোগকে। 

১৯৪৩ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে আফ্রিকায় অফিসিয়ালভাবে প্রথম রোগটিকে সনাক্ত করা হয়। এ রোগে আকান্ত হয়ে আফ্রিকায় হাজার হাজার গরু মারা যায় এবং শতশত খামার বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তি সময়ে ঠিক একইভাবে ৭০ দশক এবং ৮০ দশকে  আফ্রিকার প্রায় সব দেশেই এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাজার হাজার খামার আবারও বন্ধ হয়ে যায়।

সাধারণত এক প্রকার পক্স ভাইরাস সংক্রমনের মাধ্যমে গবাদি পশুতে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এক গরু থেকে অন্য গরুতে সংক্রমনীত হয়ে থাকে। লাম্পি স্কিন ডিজিজ রোগে আক্রান্ত গরু থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে রোগটি ছড়িয়ে থাকে। এ রোগটি এক গরু থেকে অন্য গরুতে ছড়িয়ে পড়ার প্রধান মাধ্যম গুলো হচ্ছে- মশা ও মাছি। এই রোগটি মশা ও মাছি প্রধান বাহক হিসাবে কাজ করে থাকে। অন্যান কীটপতঙ্গের মাধমেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। লালা– আক্রান্ত গরুর লালা, খাবারের মাধ্যমে অন্য গরুতে অথবা খামারে কাজ করা মানুষের কাপড়ের মাধ্যমে এক গরু থেকে অন্য গরুতে ছড়িয়ে পড়ে। দুধ আক্রান্ত গাভীর দুধে ভাইরাস থাকে, তাই আক্রান্ত গাভীর দুধ খেয়ে বাছুর আক্রান্ত হতে পারে। আক্রান্ত ষাঁড়ের সিমেন থেকেও অন্য গরুতে আক্রান্ত হতে পারে।

সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় উপজেলার ৬ নং মাটিকাটা ইউনিয়নের বোগদামারী এলাকার গৃহস্থ লালুর সাথে। সে বলেন, আমার  গরুর এ রোগ হয়েছে। গরুর গা গোল গোল ফোস্কার মত হয়ে ফুলে গেছে। গরুর চিকিৎসা করাতে ইনজেকশন, ঔষধ ও ডাক্তারের ফিসহ এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হয়ে গেছে। গরু কিছুটা সুস্থ্য হয়েছে । গরুটি সম্পূর্ন সুস্থ্য করতে আরো ঔষধ লাগবে।

চর খাসমহল এলাকার গৃহস্থ ইরাক বলেন, আমার গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এ রোগের চিকিৎসা খুবই ব্যয় বহুল। ইনজেকশন, ঔষধ ও ডাক্তারের ফিসহ গরু প্রতিপ্রায় ৪ হাজার টাকা ব্যয় হলেও এখনও গরু সুস্থ হয়নি।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: সুব্রত কুমার সরকার জানান, গোদাগাড়ীতে এ রোগের দেখা দিয়েছে। এ উপজেলায় গরু এ রোগে আক্রান্ত হলেও গরু মৃত্যুর কোন খবর পাওয়া যায়নি। আক্রান্ত গরুকে এলএসডি ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ সারিয়ে তোলা যায়। খামারে বা গিরোস্তের কোন গরু এ রোগে আক্রান্ত হলে তাকে আলাদা করে সরিয়ে মশারির মধ্যে রেখে চিকিৎসা দিতে হবে।  তাহলে অন্য গরু আক্রান্তের হাত থেকে রক্ষা পাবে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই। আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছি। আক্রান্ত গরুর চিকিৎসার জন্য দ্রুত উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

Tag
আরও খবর