অনলাইন জুয়ার নেশায় তরুণ প্রজন্ম; পিছিয়ে নেই বালিয়াডাঙ্গী তাড়াইল হাসপাতালের সংকট ও উত্তরণের উপায় এআই লিখছে কবিতা-গল্প, তাহলে লেখকদের ভবিষ্যৎ কী? প্রয়াণ দিবসে জীবনানন্দ স্মরণ ‘স্রোতের’ যে পায় সে পায় - আহসান হাবিব বাঘার "৯০" এর বন্ধুদের তেতুলিয়া বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্ট আনন্দ ভ্রমণ সম্পন্ন। চলমান শ্রমিক বিক্ষোভে ৫ শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে: বিজিএমইএ নোয়াখালীতে ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির আনন্দ শোভাযাত্রা দোকান ঘর-সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ব্যবসায়ীর জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ ৪ নভেম্বর থেকে সারাদেশে গ্যাসের সরবরাহ কমবে: পেট্রোবাংলা দুবলার চরে পাঁচ মাসের শুঁটকি মৌসুম শুরু, ১০ হাজার জেলের কর্মযজ্ঞ পোশাক খাতের অস্থিরতা নিয়ে জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবীনগরে মামার বাড়িতে বেড়াতে এসে কিশোরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে শেরপুরে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব ঋণ বিতরণ নওগাঁর নিয়ামতপুরে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে ঋণের চেক ও সনদপত্র বিতরণ মিরসরাইয়ে জাতীয় যুব দিবসে শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠকের সম্মাননা পেলেন গোলাম মর্তুজা জাতীয় যুব দিবসে মিরসরাইয়ের ফয়সাল আলম পেলেন শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তার সম্মাননা ইসলামপুরে যমুনা নদীতে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এক আসামিকে আটক করেছে পুলিশ পীরগাছায় জাতীয় যুব দিবস উদযাপন, যুব ঋণ বিতরণ র‌্যালি, আলোচনা সভা জয়পুরহাটে এসআরবির অভিযানে ইয়াবা ও টাপেন্টাডলসহ মাদক ব্যবসায়ী মিলন গ্রেপ্তার

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মএ রহিমের মৃত্যুতে জেলাজুড়ে শোকের ছায়া

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার দুই বারের সাবেক চেয়ারম্যান, শ্রীমঙ্গলের প্রবীণ রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাপ্তাহিক শ্রীভূমি পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ রহিম এর মুত্যুতে মৌলভীবাজার জেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


বুধবার (১৯ এপ্রিল) রাত ১১টা ৪০ মিনিটে তিনি সিলেটের একটি মাউন্ড এডোরা হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষা বাড়িতে ফেরার পথে মৃত্যুবরণ করেন। 


মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এমএ রহিম সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেও জীবদ্দশায় পাননি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি। সেই আক্ষেপ জীবদ্দশায় তাকে ক্ষত-বিক্ষত করে। ৭১-এর রণাঙ্গনের বীর সৈনিক ও স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে শ্রীমঙ্গল ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ক্রমান্বয়ে যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজপথ কাঁপানো এই মানুষটি আজ আর নেই। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সার্টিফিকেট রয়েছে তাঁর। শুধু সার্টিফিকেটই নয় স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৮-৭৯ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল মুক্তিযাদ্ধা সংসদের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। অথচ তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে জীবদ্দশায় মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে মারা যেতে পারেন নি।


এম এ রহিম গত ৭ এপ্রিল গুরুতর অসুস্থ হয়ে মৌলভীবাজার লাইফ লাইন হাসপাতালে কিছুদিন চিকিৎসা নেন এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটের মাউন্ড এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। 

তাঁর অসুস্থতাবস্থায় নব্বইয়ের দশকের তুখোড় সাংবাদিক সংগ্রাম দত্ত তার ফেসবুকে লেখেন-এটা সত্যিই দুঃখজনক। তবে কী জাতির এই বীর সন্তানেরা দেশের কাছে কিছুই পাবেন না। যারা জীবনবাজী রেখে এই দেশকে শত্রুমুক্ত করেছেন! দেশের কাছে কিছুই চাওয়ার নেই তাদের, তবে দেশের দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিদের উচিত ওনাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দিয়ে কিছুটা ঋণ পরিশোধ করা। আর্থিক বা অন্যান্য কোনো সুবিধা নয়, শুধুমাত্র মুক্তিযোদ্ধার সম্মানটুকুই ওনাদের চাওয়া।


১৯৬৮ সালে এম এ রহিম এর নেতৃত্বে শ্রীমঙ্গলের থানা ছাত্রলীগের কমিটি গঠিত হয়। ১৯৭০ সালে ৬ এপ্রিল পাকিস্তান সরকার সামরিক আইনে জয় বাংলা তথা পাকিস্তান ভাঙার অভিযোগে তাকে সহ অপর ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে মৌলভীবাজার জেলে প্রেরণ করে। কিন্তু জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও আন্দোলনের মুখে পাক সরকার পরদিন তাদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। জয় বাংলা মামলার তথা পাকিস্তান ভাঙার ৪ আসামি মধ্যে ৩ জনই শেষ হয়ে গেলেন। তাদের মধ্যে বাকি ৩ জন হলেন রাসেন্দ্র দত্ত, এস এ মুজিব ও মোহাম্মদ শাহজাহান। তিনি ‘৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ‘৭০ এর নির্বাচন সর্বোপরি ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে কাজ করেন।

১৯৮৩ ও ১৯৮৮ পরপর দুবার পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। জাতীয় সংসদে নির্দলীয় প্রার্থীদের পাস করানোর অনেক কিছুই তিনি করেছেন।


১৯৭৫ সাল থেকে শুরু করে ১৯৯০ এর গণদ্বুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার অবদান ছিল অপরিসীম। ১৯৭১ সালে ভারতের বিএলে ব্যস্ততা মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে ভারতের ট্রেনিং নিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার ধারক বাহকদের সংকীর্ণমনা রাজনীতির কারণে তার মুক্তিযোদ্ধা তলিকার আবেদন শ্রীমঙ্গল থানা যাচাই-বাছাই কমিটি মুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত তথ্য মানেনি বলে দ্বিধা বিভক্ত অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছিল।


বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ রহিম এর মৃত্যুতে শ্রীমঙ্গল উপজেলাসহ মৌলভীবাজার জেলাজুড়ে এখন শোকের ছায়া নেমে আসে। মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ রহিম এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব উপাধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ আব্দুস শহীদ এমপিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃ্ৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।


আজ বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) বেলা ৩টায় শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া হাইস্কুল মাঠে তার প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৪টায় এম এ রহিম এর গ্রামের বাড়ি শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাযা শেষে সেখানেই মরহুমকে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

আরও খবর