ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি ইউরোপ থেকে ফেরত এলো ৩৫ বাংলাদেশি যমুনা ফিউচার পার্কে আজ জেমসের কনসার্ট বাংলাদেশে ৬৩৬ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান নালিতাবাড়ীর কৃষক সেন্টু হাজংয়ের ধান উদ্ভাবন সরেজমিনে পরিদর্শন করলেন শেরপুরের ডিসি ফরিদা ইয়াসমিন সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতার অভিযোগ 'শত্রুতার জেরে ছেলে-মেয়েকে স্বর্ণ চুরির মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে' মিরসরাইয়ে পাহাড়ধসে সন্তানহারা পরিবারের পাশে বিএনপি নেতা ফজলুল মুরাদ, স্থাপন করলেন নলকূপ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার সারাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর-নুরুল আমিন এমপি রাজনৈতিক পরিচয়ে লুটপাট, সম্পদ দখল করতেই রতনকে হত্যা: কর্নেল বাতেন আদমদীঘিতে মাদক বেচা-কেনার অভিযোগ: হিজরাপট্টিতে এলাকাবাসীর অগ্নিসংযোগ আদমদীঘিতে বিএনপি নেতা মেম্বার প্রার্থীর পূজামন্ডপে আর্থিক সহায়তা ও গেঞ্জি বিতরণ আসন্ন ইউপি নির্বাচন ঘিরে কৃষ্ণনগরে জি এম রবিউল্যাহ বাহারের কর্মী সমাবেশ, ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান নোয়াখালীতে অটোরিকশা চালকের রহস্যজনক মৃত্যু শেরপুরের শ্রীবরদীতে খাল থেকে ড্রামে নারীর মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় শনাক্ত শ্যামনগরে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় জেলা প্রশাসকের সাথে মতবিনিময় প্রটোকল ভেঙে জনগণের সঙ্গে মিশলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কচুয়ায় সাচারে শ্রী শ্রী শারদীয় দূর্গা পূজার মন্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শিক্ষামন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত জয়পুরহাটে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি রাজশাহী কাটাখালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৩৭০০ ট্যাপেন্টাডল ও ১.৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ নগদ ১১ লাখ ৬৭ হাজার ১৭০ টাকা ও মোবাইল ফোন জব্দ শ্যামনগরের দ্বীপ ইউপি গাবুরায় মেগা প্রকল্প পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ

মার্কিন ডলারের আধিপত্য চ্যালেঞ্জ করতে পারবে চীন-রাশিয়া?

দেশচিত্র নিউজ ডেস্ক

প্রকাশের সময়: 19-04-2023 01:25:16 pm

বিশ্বজুড়ে বৈদেশিক বাণিজ্যের লেনদেনে ডলার প্রধান মুদ্রা হলেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন এক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। মার্কিন ডলারের আধিপত্য খর্ব করার জন্য সক্রিয় হয়ে উঠেছে চীন ও রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে মুদ্রাবাজারে। অনেক দেশ আন্তর্জাতিক লেনদেনে ডলারের বিকল্প হিসেবে নিজেদের মুদ্রা ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।


বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন ব্যাংকের মোট রিজার্ভের ৭০ শতাংশই রয়েছে ডলারের দখলে। বড় অর্থনীতি দেশগুলো নিজেদের মুদ্রা চালুর এই চেষ্টায় ডলারের আধিপত্য কমবে কিনা সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।


বিকল্প খুঁজছে অনেকে

ইউক্রেনে হামলার জের ধরে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর থেকেই তারা ঘোষণা করেছে, গ্যাস বা তেল বিক্রির অর্থ এখন থেকে রুবলে পরিশোধ করতে হবে। এর ফলে বিনিময় মূল্য কমে যাওয়ার বদলে বরং আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে রুবল।


চীন, ভারত ও তুরস্কের মতো বড় অর্থনীতির দেশ রাশিয়া থেকে রুবলে তেল ও গ্যাস কিনছে। এমনকি ইউরোপীয় দেশগুলোও রুবলে রাশিয়াকে অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের পর রাশিয়া সবচেয়ে বেশি তেল রপ্তানি করে থাকে।


রাশিয়ার অর্থায়নে বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে। এর ঋণ চীনা মুদ্রা ইউয়ানে পরিশোধের ব্যাপারে বাংলাদেশ ও রাশিয়া সম্মত হয়েছে বলে সম্প্রতি বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।


ডলারের বিকল্প খুঁজতে শুরু করেছে ইরান, চীন, ব্রাজিল, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, সিঙ্গাপুরসহ ১৮টি দেশের সঙ্গে রূপিতে লেনদেনের একটি চুক্তি করেছে ভারত।


আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সাবেক অর্থনীতিবিদ ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের স্ট্র্যাটেজিস্ট ডেভিড উ বিবিসিকে বলেন, রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক বিনিময় মুদ্রা হিসেবে ডলার নিয়ে অনেক দেশ ভাবতে শুরু করেছে।


রাশিয়া ডলারের বদলে রুবলে লেনদেনের চেষ্টা করছে। চীনও বৈদেশিক বাণিজ্যে ইউয়ান ব্যবহারের চেষ্টা করছে। কারণ তারাও চিন্তা করতে শুরু করেছে, কোনদিন যদি তাদের অবস্থা রাশিয়ার মতো হয়, তখন কী হবে? ফলে অনেক দেশই নিজেদের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্যে ডলারের বিকল্প ব্যবহারের চেষ্টা করছে।


সৌদি আরব থেকে ইউয়ান ব্যবহার করে তেল কেনার বিষয়ে আলোচনা করছে চীন। এর মধ্যেই তারা ফ্রান্সের টোটাল এনার্জির সঙ্গে ইউয়ানে লেনদেন শুরু করেছে।


গত মার্চ মাসে ব্রাজিল ও চীন একটি যুক্তি করেছে। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের বাণিজ্যের লেনদেন নিষ্পত্তিতে পরস্পরের মুদ্রা ব্যবহার করা হবে।


ইরান, ভেনেজুয়েলা ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোতে পণ্য বিনিময়ে ২০১৮ সালে সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এক্সচেঞ্জ স্থাপন করেছে চীন, যেখানে তারা রেনমিনবি বা আরএনবিতে লেনদেন করছে।


বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, আগস্ট মাসে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত জোট ব্রিকসের যে সম্মেলন রয়েছে সেখানে ডলারের বিকল্প মুদ্রায় লেনদেনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।


বর্তমান বিশ্বে রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে ডলারের অবস্থান প্রায় ৭০ শতাংশ। এরপরেই রয়েছে ইউরো, পাউন্ড, অস্ট্রেলিয়ার বা কানাডার মুদ্রা ইয়েনের অবস্থান। অপরদিকে বাংলাদেশের আমদানির ৮৫ শতাংশ আর রপ্তানির ৯৭ শতাংশ ডলার ব্যবহার করে করা হয়।


বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের ২০১৯ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বিভিন্ন দেশের মধ্যে সরাসরি নিজেদের মুদ্রা বিনিময়ের সুযোগ থাকলে ঝুঁকি এবং বাণিজ্যিক খরচ কমে আসে। যদিও বাংলাদেশে সেরকম কোন প্রচেষ্টা শুরু হয়নি।


গত ২০/৩০ বছর ধরেই ডলারের বিকল্প মুদ্রার বিষয়ে নানা আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তাতে এখনো কোনো সফলতা আসেনি। ইউরোপের অনেকগুলো দেশের একক মুদ্রা ইউরো হলেও এসব দেশের অর্থনীতিতে আলাদা আলাদা নীতি আছে। সব দেশের অর্থনীতিও একরকম নয়। ফলে ইউরোর পক্ষে সারাবিশ্বের একটি মুদ্রা হয়ে ওঠা অনেক চ্যালেঞ্জের। চীনের পক্ষে সেটা সম্ভব ছিল, কিন্তু রাজনৈতিক কারণে, নিজেদের অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য তারা সেটা চায় না।


ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপের দেশগুলোতে ইউরো ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হলেও অন্য অঞ্চলে এর ব্যবহার অনেক কম। ফলে সম্ভাবনা থাকলেও ডলারের বিপরীতে সেটি শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেনি।


এক্ষেত্রে চীন একটি বিকল্প হয়ে উঠতে পারতো। কিন্তু নিজেদের অর্থনৈতিক নীতির কারণেই চীন সেটা চায় না। এছাড়া চীনের মুদ্রা এখনো পুরোপুরি বিনিময়যোগ্য মুদ্রা হিসেবে চালু হয়নি। চীন তাদের ক্যাপিটাল ধরে রাখতে চায়, নিজেদের অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। এরকম চিন্তায় তাদের মুদ্রা কখনো পুরোপুরি আন্তর্জাতিক মুদ্রা হয়ে উঠতে পারবে না বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।


এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, কোনো দেশ যদি তার মুদ্রাকে ডলারের বিপরীতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তবে তাকে বৈদেশিক মুদ্রার চলতি হিসেবের বড় ঘাটতি মেনে নিতে হবে। অর্থাৎ তার দেশে ওই মুদ্রা যতটা আসে, তার চেয়ে বেশি মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যাবে।


বর্তমানে ডলারের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় চলতি হিসাবের ঘাটতির দেশ। অন্যদিকে চীন হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় চলতি হিসাবে সমৃদ্ধ দেশ।


অর্থনীতিবিদ ডেভিড উ বলছেন, চীনের মতো রপ্তানি নির্ভর দেশগুলো কখনো চাইবে না, ডলারের বিপরীতের তাদের মুদ্রার মান বেড়ে যাক। সেটা হলে তাদের রপ্তানি আয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ঠিক একই কারণে সেটা করতে চায় না জাপানের মতো দেশও।


অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ডলারের মতো করে কোনো দেশ নিজেদের মুদ্রাকে আন্তর্জাতিক রিজার্ভ মুদ্রা হিসাবে ব্যবহার করতে চাইলে চলতি হিসাবের বিশাল ঘাটতি তৈরি হবে।


আইএমএফের সাবেক অর্থনীতিবিদ ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের স্ট্রাটেজিস্ট ডেভিড উ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সেটা করতে রাজি আছে। কিন্তু চীন, জাপানের মতো দেশ, যাদের এখন বৈদেশিক মুদ্রার বিশাল মজুদ আছে, তারা কখনোই চাইবে না, তাদের নিজেদের মুদ্রার মান বাড়িয়ে চলতি হিসাবে বিশাল ঘাটতি তৈরি হোক।


তিনি বিবিসিকে বলেন, অনেক দেশ এখন নিজেদের মুদ্রায় লেনদেন করার চেষ্টা করছে, কিন্তু তার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মুদ্রা হিসাবে বা রিজার্ভের মাধ্যম হিসাবে তারা ডলারের সমকক্ষ হয়ে উঠতে পারবে বলে আমি মনে করি না। কারণ এখনো ডলারকে যেভাবে বিশ্বের দেশগুলো তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হিসাবে ব্যবহার করে, অন্য কোন মুদ্রা সেই অবস্থায় এখনো যেতে পারেনি।


ফলে আপাতত ডলারের জন্য এখনো বিশ্ববাজারে বড় কোন হুমকি দেখছেন না এই সাবেক অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, আমরা জানি ডলারের অনেক সমস্যা আছে, কিন্তু আর কোন মুদ্রা কি আছে, যেটা ডলারের চেয়ে সমস্যা কম এবং ডলারকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে? এখনো তেমনটা দেখছি না।

আরও খবর